Ad
Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬


ঘুমের মধ্যে ‍উচু থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয় কেন?

Main Image

প্রতীকী ছবি


গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হয় যেন উঁচু কোনো জায়গা থেকে পড়ে যাচ্ছেন। সেই অনুভূতিতে অনেকেই ধড়ফড়িয়ে জেগে ওঠেন। কারও আবার ঘুমের মধ্যে পা বা পুরো শরীরে আকস্মিক ঝাঁকুনির অনুভূতি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ঘটনাকে বলা হয় হিপনিক জার্ক।

 

হিপনিক জার্কের সঙ্গে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, ঘাম হওয়া, আচমকা শরীর কেঁপে ওঠা কিংবা শূন্যে পড়ে যাওয়ার মতো অদ্ভুত অনুভূতি থাকতে পারে। এটি কেন হয়, এটি কোনো স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ কি না এবং কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন— এসব বিষয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ধুজা।

 

ডা. সিন্ধুজা বলেন, ঘুমের মধ্যে উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি বা হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠার ঘটনা খুবই সাধারণ। তার ভাষায়, এটা যে শুধু আপনারই হচ্ছে তা নয়। দশজনের মধ্যে সাতজনই কোনো না কোনো সময় এমনটা অনুভব করেছেন।

 

তিনি জানান, হিপনিক জার্কের তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি এতটাই হালকা হয় যে তিনি নিজেও বুঝতে পারেন না। আবার কারও ক্ষেত্রে ঝাঁকুনি এত বেশি হয় যে ঘুম ভেঙে উঠে বসতে হয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিপনিক জার্ক মূলত ঘুমের সময় হওয়া অনিচ্ছাকৃত পেশির সংকোচন। সাধারণত জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমের প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়ার সময় এটি ঘটে। মানুষের ঘুম সাধারণত নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (এনআরইএম) এবং র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম)—এই দুই ভাগে বিভক্ত। ঘুমের চক্র আবার চারটি পর্যায়ে বিভক্ত, যা সাধারণত ৯০ থেকে ১১০ মিনিট পরপর পরিবর্তিত হয়।

 

এন- ১ পর্যায়ে জেগে থাকা ও ঘুমের মধ্যবর্তী অবস্থা তৈরি হয় এবং পেশি শিথিল হতে শুরু করে। এন- ২ পর্যায়ে হৃদ্‌স্পন্দন ও শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। এন ৩ বা গভীর ঘুমের পর্যায় শরীরকে পুনরুদ্ধার করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। আরইএম পর্যায়ের সঙ্গে স্বপ্ন দেখার সম্পর্ক রয়েছে।

 

ডা. সিন্ধুজার মতে, হিপনিক জার্ক সাধারণত ঘুমের প্রথম দুই পর্যায়ে দেখা যায়। এ সময় হঠাৎ পড়ে যাওয়ার অনুভূতি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো অনুভূতি, পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বপ্ন বা হ্যালুসিনেশন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা ঘুমের মধ্যে কথা বলে ওঠার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, এটি মাংসপেশির আকস্মিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ঝাঁকুনি, যা জেগে থাকা থেকে ঘুমের অবস্থায় যাওয়ার সময় বেশি দেখা যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হিপনিক জার্কের নির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে না। তবে অতিরিক্ত ক্লান্তি, অনিদ্রা, বেশি কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ, নিকোটিন ব্যবহার এবং মানসিক চাপ এর প্রবণতা বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চাপ, উদ্বেগ ও ক্লান্তি ঘুমের সময় হওয়া এই স্বতঃস্ফূর্ত পেশি স্পন্দনের তীব্রতা বাড়াতে পারে।

 

তবে হিপনিক জার্ক সব সময় স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। যদি পেশির ঝাঁকুনি নিয়মিত, ঘন ঘন বা প্রতিদিন হতে থাকে, ঘুমের মধ্যে খিঁচুনির মতো পরিস্থিতি হয়, নাক ডাকা, মুখ থেকে ফেনা বের হওয়া, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া বা অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাবের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

 

ডা. সিন্ধুজার মতে, এসব লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো মৃগী বা অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন