
প্রতীকী ছবি
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ মারা যান। সাধারণ মানুষের ধারণা, বুক বা কাঁধ থেকে বাঁ হাতে ছড়িয়ে পড়া তীব্র ব্যথাই হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ।
তবে বড় কোনো অঘটনের আগে হৃদযন্ত্র অনেক সময় কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দিতে শুরু করে। এসব সংকেত বুঝতে না পারলে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তীতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হলো এমন এক ধরনের সমস্যা, যেখানে বুকে তীব্র ব্যথা বা অস্বস্তি থাকে না। ফলে রোগী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।
তবে শরীর কিছু গোপন সংকেত দেয়, যেগুলো অনেকে সাধারণ ক্লান্তি বা বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। গবেষকদের মতে, এসব লক্ষণ আগে থেকে শনাক্ত করতে পারলে অকাল হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেলিয়রের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের ২০২৩ সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী, হার্ট ফেলিয়রের প্রাথমিক উপসর্গগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফোলা ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট।
অনেকেই এসব লক্ষণকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রভাব মনে করে উপেক্ষা করেন। তবে সময়মতো শরীরের দেওয়া সতর্ক সংকেত বুঝে প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও চিকিৎসা শুরু করলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা
অল্প কয়েকটি সিঁড়ি ভাঙা, সামান্য হাঁটাহাঁটি বা ঘরের ছোটখাটো কাজ করেই যদি হাঁপিয়ে যেতে হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অনেকেই এটিকে শরীরের ফিটনেস কমে যাওয়া বা সাধারণ ক্লান্তি বলে মনে করেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ডিসপনিয়া’। এটি হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত পাম্প করতে না পারা অথবা ফুসফুসের ওপর অতিরিক্ত চাপের ইঙ্গিত হতে পারে।
পা ফোলে যাওয়া
চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগীদের মধ্যে অনেকেই মূল সমস্যা শনাক্ত হওয়ার আগে যৌন দুর্বলতায় ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে হৃদরোগের কয়েক বছর আগেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শরীরের ছোট ধমনিগুলোতে, যেমন পেনাইল আর্টারিতে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হলে যে সমস্যা হয়, হৃদযন্ত্রের ধমনিতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা ভ্রমণের কারণে সাময়িকভাবে পায়ে ফোলা দেখা দিতে পারে। তবে পা, গোড়ালি বা পায়ের নিচের অংশে নিয়মিত ফ্লুইড জমা হওয়া কিংবা ফুলে থাকা বিপদের সংকেত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, এর অর্থ হতে পারে হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে রক্ত ও পানি পায়ের দিকে জমতে পারে। এটি হার্ট ফেলিয়র বা কিডনির সমস্যার অন্যতম নীরব লক্ষণও হতে পারে।
পুরুষদের যৌন দুর্বলতা
চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগীদের মধ্যে অনেকেই মূল সমস্যা শনাক্ত হওয়ার আগে যৌন দুর্বলতায় ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে হৃদরোগের কয়েক বছর আগেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শরীরের ছোট ধমনিগুলোতে, যেমন পেনাইল আর্টারিতে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হলে যে সমস্যা হয়, হৃদযন্ত্রের ধমনিতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এমন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন