Ad
Advertisement
Doctor TV

রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬


মিষ্টি খাওয়া ছাড়াও যেসব অভ্যাসে রক্তে শর্করা বাড়ে

Main Image

ফাইল ফটো


মিষ্টি ও চিনি কম খাওয়া সত্ত্বেও যদি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এর পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে। খাবারের পাশাপাশি জীবনযাপনের পদ্ধতিও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ, দীর্ঘ সময় বসে থাকা কিংবা অনিয়মিত খাবারের মতো দৈনন্দিন অভ্যাস রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে। 

 

তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ডায়াবেটিসের কথা উঠলেই অনেকের প্রথম সিদ্ধান্ত হয় মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করা। এটি অবশ্যই ভালো একটি পদক্ষেপ। কিন্তু মিষ্টি এড়িয়ে চলার পরও রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকে না, কখনো কখনো আরও বেড়ে যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিনি বা মিষ্টি খাওয়া নয়, দৈনন্দিন জীবনযাপনের আরও অনেক অভ্যাস রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুম, মানসিক চাপ, শরীরচর্চা, খাবার খাওয়ার সময় এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয়গুলোও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাকে প্রভাবিত করে।

 

অপর্যাপ্ত ঘুম

ঘুমের অভাব শুধু ক্লান্তিই বাড়ায় না, এটি রক্তে শর্করার মাত্রাও প্রভাবিত করতে পারে। নিয়মিত কম ঘুম হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়ে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত।

 

অতিরিক্ত মানসিক চাপ

অফিসের চাপ, পারিবারিক দুশ্চিন্তা, অর্থনৈতিক উদ্বেগ বা সারাক্ষণ ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যস্ত থাকা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসের কারণে কর্টিসলসহ কিছু হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

 

দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা

অনেকেই নিয়মিত মিষ্টি খান না, কিন্তু দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটান। এতে শরীরের পেশিগুলো কম সক্রিয় থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ঘণ্টায় অন্তত কয়েক মিনিট হাঁটা বা হালকা নড়াচড়া করলে শরীর গ্লুকোজ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে। খাবার খাওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাও উপকারী হতে পারে।

 

 

খাওয়ায় অনিয়ম

সকালের নাশতা বাদ দেওয়া, অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা বা রাত করে ভারী খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাসও রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। নিয়মিতভাবে রুটিনমাফিক সুষম খাবার খেলে শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

 

পরিশোধিত শর্করা বেশি খাওয়া

অনেকে মিষ্টি না খেলেও নিয়মিত সাদা ভাত, ময়দার তৈরি খাবার, বিস্কুট, চিপস বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খান। এসব খাবারও দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। 

 

তাই শুধু মিষ্টি বাদ দিলেই হবে না, পুরো খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শাকসবজি, ডাল, গোটা শস্য, বাদাম ও পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

 

খাবারের আশপাশের পরিবেশের প্রভাব

বর্তমানে টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন, অনলাইন খাবার অর্ডার, অফিসের আপ্যায়ন বা সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া হয়ে যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই ধরনের পরিবেশ আমাদের অজান্তেই অতিরিক্ত খাবার খেতে উৎসাহিত করে। তাই ক্ষুধা লাগার কারণে খাচ্ছেন, নাকি অভ্যাসবশত খাচ্ছেন, সেটি বুঝে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

 

আরও পড়ুন