
ছবি: প্রতীকী
ঘন, কালো ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। কিন্তু বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি, দূষণ এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক পণ্যের ব্যবহারের কারণে অল্প বয়সেই অনেকের চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত চুল পড়া এবং নতুন চুল না গজানোর সমস্যা এখন নারী-পুরুষ উভয়ের কাছেই একটি সাধারণ উদ্বেগের বিষয়। তাই চুলের হারানো ঘনত্ব ফিরিয়ে আনতে নানা ধরনের প্রসাধনী ও রাসায়নিক পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, চুলের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সঠিক জীবনযাপন ও প্রাকৃতিক যত্ন। নিয়মিত মাথার ত্বকের পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে আনলে চুলের গোড়া মজবুত হওয়ার পাশাপাশি চুল পড়াও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
দীর্ঘমেয়াদে এসব অভ্যাস নতুন চুল গজানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরিতেও সহায়তা করতে পারে। চুল পড়া কমিয়ে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে কার্যকর এমন তিনটি সহজ উপায়ের কথাই তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
পেঁয়াজের রস
চুলের যত্নে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে পেঁয়াজের রস বেশ জনপ্রিয়। পেঁয়াজে থাকা সালফার মাথার ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে, যা চুলের ফলিকলকে সক্রিয় রাখতে এবং নতুন চুল গজানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের গোড়া মজবুত হওয়া এবং অতিরিক্ত চুল পড়া কমতেও সহায়ক হতে পারে।
যেভাবে ব্যবহার করবেন: একটি বড় পেঁয়াজ ব্লেন্ড করে বা বেটে রস বের করে নিন। এরপর তুলা বা আঙুলের সাহায্যে রসটি মাথার ত্বক ও চুলের গোড়ায় ভালোভাবে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। পরে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এভাবে ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে এর উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনে অল্প করে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
ক্যাস্টর ও নারকেল তেল
চুলের যত্নে ক্যাস্টর অয়েল দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা রিসিনোলিক অ্যাসিড ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। অনেকের ধারণা, এটি মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের ফলিকলকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে ক্যাস্টর অয়েল বেশ ঘন হওয়ায় এটি সরাসরি ব্যবহার না করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করাই ভালো।
যেভাবে ব্যবহার করবেন: সমপরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল ও খাঁটি নারকেল তেল একসঙ্গে হালকা গরম করে নিন। রাতে ঘুমানোর আগে আঙুলের ডগা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মাথার ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। সারা রাত রেখে পরদিন সকালে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এভাবে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
মেথি ও অ্যালোভেরা
চুলের পরিচর্যায় মেথি ও অ্যালোভেরার ব্যবহারও বেশ জনপ্রিয়। মেথিতে থাকা প্রোটিন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান চুলকে মজবুত রাখতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, অ্যালোভেরা মাথার ত্বকের শুষ্কতা কমাতে, আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। এই দুই উপাদানের সমন্বয় চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখতে সহায়ক হতে পারে।
যেভাবে ব্যবহার করবেন: এক টেবিল চামচ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে বেটে নিন। এরপর এর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ টাটকা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি মাথার ত্বক ও চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পরিষ্কার পানি ও মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
যা মনে রাখবেন
চুলের সুস্থতা শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে না; শরীরের ভেতর থেকেও প্রয়োজন পর্যাপ্ত পুষ্টি। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার ও তাজা ফল-সবজি রাখুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন