Ad
Advertisement
Doctor TV

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬


১ জুলাই জাতীয় চিকিৎসক দিবস: চিকিৎসাখাতের উন্নয়ন ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

Main Image

সংগ্রহীত


আজ ১ জুলাই ‘জাতীয় চিকিৎসক দিবস’। দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও মানবসেবায় তাদের অবদানের স্বীকৃতি জানাতে দিবসটি পালিত হয়। দিবসটি চিকিৎসকদের অপরিহার্য ভূমিকার কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে চিকিৎসকদের অবদানের স্বীকৃতি জানাতে দিনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন তারিখে ‘জাতীয় চিকিৎসক দিবস’ পালিত হয়। ১৯৩৩ সালের ৩০ মার্চ প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় চিকিৎসক দিবস বা National Doctors' Day পালিত হয়। ১৯৫৮ সালে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (AMA) দিবসটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। চিকিৎসকদের অবদানকে সম্মান জানাতে এবং সমাজে তাদের গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে দিবসটি চালু হয়। 

পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রেক্ষাপটে ‘জাতীয় চিকিৎসক দিবস’ পালন শুরু করে। ভারতে প্রতি বছর ১ জুলাই জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালিত হয়। কিউবায় ৩ ডিসেম্বর, ব্রাজিলে ১৮ অক্টোবর এবং ইরানে ২৩ আগস্ট জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালিত হয়।

 

বাংলাদেশে সরকারিভাবে ঘোষিত কোনো নির্দিষ্ট তারিখে চিকিৎসক দিবস পালিত হয় না। প্রতিবেশী দেশ ভারতের অনুসরণে প্রতি বছর ১ জুলাই বাংলাদেশেও জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালন করা হয়। তবে বাংলাদেশেও এই দিনটি সরকারিভাবে পালনের ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

দিবসটিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, স্বাস্থ্যসেব প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে। বাংলাদেশে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থাকা অসংখ্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান জানাতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর চিকিৎসক সমাজসহ সংশ্লিষ্টরা নতুন করে দিবসটির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।

জাতীয় চিকিৎসক দিবসে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, চিকিৎসক সংগঠন এবং মেডিকেল কলেজে আলোচনা সভা, সেমিনার, সম্মাননা প্রদান এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশও তুলে ধরা হয়।

জাতীয় চিকিৎসক দিবস দেশের চিকিৎসাখাতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। পাশাপাশি দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুবিধা-অসুবিধা ও নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের ভাবায়। দেশের চিকিৎসাখাত ও চিকিৎসকদের উন্নয়ন, নিরপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আমাদের সবার কাজ করা উচিত।

চিকিৎসকরা শুধু রোগ নির্ণয় কিংবা চিকিৎসাসেবাই দেন না। রোগীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে আস্থার অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠেন তারা। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত এক করে বিভিন্ন উৎসব-উপলক্ষ বাদ দিয়ে রোগীদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেন।

 

করোনা মহামারীর থেকে শুরু করে চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মতো সংকটের মুহুর্তে চিকিৎসকরা মহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যে কোনো দূর্যোগ ও মহামারীর মতো ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের মানুষের সেবায় এগিয়ে আসেন। তাদের এই নীরব ত্যাগ ও পেশাগত দায়িত্ব জাতীয় চিকিৎসক দিবসকে আরো তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গত কয়েক বছরে প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষায়িত চিকিৎসা, টেলিমেডিসিন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকদের স্বল্পতা, সরকারি হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ, আধুনিক যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা এবং গ্রাম-শহরের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করেন তারা।

 

দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে কর্মঘণ্টা, সুযোগ-সুবিধা, বেতন-ভাতার মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। আবার সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা দেশের চিকিৎসক সমাজকে গভীরভাবে আহত করেছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য লড়াই করা এই মহান পেশার প্রতি নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহ তৈরি হবে।

স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও মানবিক করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক অবকাঠামো এবং গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও কার্যকর যোগাযোগ উন্নত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসরণ করলে সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।

 

জাতীয় চিকিৎসক দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস পালন নয়। এটি মানবিক সেবা, পেশাগত দায়িত্ববোধ এবং জনকল্যাণে নিবেদিত চিকিৎসকদের প্রতি সম্মান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এ দিনটি চিকিৎসকদের অবদানের স্বীকৃতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সমতাভিত্তিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও নতুন করে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন