Ad
Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬


বাধা উপেক্ষা করে জুলাই অভ্যুত্থানের আহতদের চিকিৎসা দিয়েছে এনডিএফ: শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী 'জুলাই উদযাপন' কর্মসূচি

Main Image

সংগ্রহীত


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলা, হুমকি ও নানা প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করেই আহতদের স্বাস্থ্যসেবা, রক্ত ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশনা থাকলেও, এনডিএফের চিকিৎসকদের কৌশলী ও মানবিক সেবায় বহু প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এই দাবি করেন। তাঁরা বলেন, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অবদানেই চব্বিশের জুলাই আন্দোলন সাফল্যের মুখ দেখেছে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ধারণ এবং এর আত্মত্যাগ ও বৈষম্যবিরোধী চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই ‘জুলাই অভ্যুত্থান: ইনসাফ, মেধা ও রাষ্ট্র বিনির্মাণ/রাষ্ট্র সংস্কার’ প্রতিপাদ্যে মাসব্যাপী 'জুলাই উদযাপন' কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি, যার মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জুলাইয়ের আত্মত্যাগ থেকে আগামীর অঙ্গীকার।’

 

সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের অফিস সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক মাসব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলাই উদযাপন উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, স্মৃতিকথা সংগ্রহ, গবেষণা কার্যক্রম, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, জুলাই মেডিকেল কনফারেন্স এবং ‘এনডিএফ ৩৬ জুলাই অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৯ আগস্ট ২০২৬ রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী এক গ্র্যান্ড প্রোগ্রামের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল ইনসাফ বা ন্যায়বিচার, আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানও একই চেতনার ধারাবাহিকতা বহন করে। একাত্তরের শাসকেরা অদক্ষতা ও দুর্নীতির পরিচয় না দিলে এবং প্রতিবেশী দেশের জুলুম-লুটপাট না থাকলে চব্বিশের এই আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না। তাই একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং রাষ্ট্র সংস্কার ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তেই এনডিএফের এই আয়োজন।

 

আন্দোলনের দিনগুলোর ভয়াবহ স্মৃতি চারণ করে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, গুলিতে খুলি উড়ে যাওয়া কিংবা মগজ-ফুসফুস বের হয়ে যাওয়ার মতো বীভৎস জখম নিয়ে আসা তরুণ যোদ্ধাদের চিকিৎসকরা ঠাণ্ডা মাথায় সেবা দিয়েছেন, যার ফলে অনেক ক্যাজুয়ালিটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এনডিএফের উদ্যোগে আহতদের জন্য প্রায় ৮৪ ব্যাগ রক্ত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তথ্য প্রকাশ ও সমন্বয় রক্ষায় কাজ করেছেন। এনডিএফ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ডা. নুরুদ্দিন তালুকদার তৎকালীন সরকারের নিষ্ঠুরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা না দিতে এবং ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’ নীতি বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে এনডিএফ চিকিৎসকরা রোগীদের জীবনের সুরক্ষায় নানা কৌশলের আশ্রয় নেন; যেমন— গুলিতে আহত রোগীকে ‘রাস্তায় এক্সিডেন্ট করেছে’ বলে চিকিৎসা দেওয়া হতো।

 

সংবাদ সম্মেলনে দেশের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এনডিএফ নেতারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ন্যায়বিচার ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্নকে নতুনভাবে উন্মোচিত করেছে। শহীদ ও আহতদের এই ত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

 

তবে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ডা. উসামা রাইয়ান একটি উদ্বেগজনক তথ্য দিয়ে বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেসব হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধাদের সেবা দিয়েছিলেন, বর্তমানে তাদেরকে তালিকা করে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংবাদ সম্মেলনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মাননা প্রদান এবং মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন