Ad
Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬


দেশে ছানি অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ১০ লাখ রোগী: ৮৩৩ জনের বিপরীতে সার্জন মাত্র ১ জন, ৪০ হাজার শিশুর অন্ধত্বের ঝুঁকি

Main Image

সংগ্রহীত


বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চোখের ছানি রোগ। বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ রোগী ছানি অস্ত্রোপচারের (অপারেশন) অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ এই বিপুল সংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের তীব্র সংকট রয়েছে; প্রতি ৮৩৩ জন রোগীর জন্য যোগ্য সার্জন আছেন মাত্র একজন। শুধু তাই নয়, দেশে প্রায় ৪০ হাজার অন্ধ শিশুর মধ্যে ১২ হাজার শিশু চিকিৎসাযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এখনো তারা ছানির অস্ত্রোপচার সুবিধা পায়নি। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী দেশের প্রয়োজনের তুলনায় চক্ষু সার্জনের সংখ্যা প্রায় চার গুণ কম। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক সংকট ও সেবার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

 

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী পালিত ‘ছানি সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের পেশাদার সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটার্যাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জন্স (বিএসসিআরএস) একটি আলোচনাসভার আয়োজন করে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের চক্ষু চিকিৎসার এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ছানি সচেতনতা মাস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. নজরুল ইসলাম এবং সার্বিক সমন্বয় করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ. এস. এম. মইন উদ্দিন।

 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডা. এ. এস. এম. মইন উদ্দিন জানান, দেশে বর্তমানে ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যাকলগ প্রায় ১০ লাখ। বিপরীতে দেশে চক্ষু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র দুই হাজার ২০০ জনের মতো, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। একজন সার্জনের ওপর যদি এক হাজারের কাছাকাছি রোগীর দায়িত্ব পড়ে, তবে জমে থাকা এই রোগীর চাপ কমানো অসম্ভব। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বিশ্বে অন্ধত্বের প্রায় ৫১ শতাংশের কারণ ছানি হলেও বাংলাদেশে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৮০ শতাংশ। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন চিকিৎসানির্ভর থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে সরকার এখন চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে চোখের রোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্তকরণের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ছানি অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিরাপদ, কার্যকর এবং দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করে। তাই দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে ভয়, কুসংস্কার বা অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সের পর সবাইকে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা। 

 

বিএসসিআরএস জানায়, ছানি সচেতনতা মাস উপলক্ষে জুন মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি, বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভা এবং আই ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে জাতীয় প্রচেষ্টা আরও জোরদার করাই তাদের মূল লক্ষ্য। উক্ত অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, শিক্ষক, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন