Ad
Advertisement
Doctor TV

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬


বাংলাদেশে জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে ‘আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

Main Image

সংগ্রহীত


বাংলাদেশে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) জনিত রোগ প্রতিরোধ, গবেষণা, শিক্ষা এবং জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলের জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিবিএস)-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টার। আজ সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার রুমে (৫০৭) আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।


​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ-এর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা ও অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহারের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ডা. সৈয়দা নওশীন পারভীন, বিএমইউ-এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। এছাড়াও বিএমআরসি-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার, আইসিডিডিআর,বি-এর এমেরিটাস বিজ্ঞানী ডা. ফিরদৌসী কাদরী এবং আইপিভিএস-এর সদ্য-প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক সুজান গারল্যান্ডসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ এতে অংশ নেন


​প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ এই চ্যাপ্টারের সাফল্য কামনা করে বলেন, "জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মৃত্যুহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এইচপিভি এখন একটি বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, আর তা প্রতিরোধে ভ্যাক্সিনেশন বা টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই।" সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে মিশনটি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয়ের ওপর জোর দেন। অন্যদিকে, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, এইচপিভি প্রতিরোধে প্রাথমিক সচেতনতা, স্ক্রিনিং ও ভ্যাক্সিনেশন অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে প্যাথলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


​অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সমন্বয়ক ডা. লুৎফা বেগম লিপি। তিনি এই চ্যাপ্টার প্রতিষ্ঠাকে বাংলাদেশে এইচপিভি সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অবিহিত করেন। চ্যাপ্টারের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে অধ্যাপক আশরাফুন্নেসা উল্লেখ করেন, আইপিভিএস-এ বাংলাদেশের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ঘানা, নাইজেরিয়া ও নেপালের পর ৪র্থ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই চ্যাপ্টার গঠনের অনুমোদন পেয়েছে। এরপর অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার চ্যাপ্টারের আগামী এক বছরের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্টদের এর সদস্য হওয়ার আহ্বান জানান।


​আলোচক ও বিশেষজ্ঞগণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ক্যান্সার নির্মূল কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে এইচপিভি টিকাদান, আধুনিক স্ক্রিনিং, গবেষণা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টার দেশের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের মাঝে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলে প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সবশেষে, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ একসঙ্গে কেক কেটে ও বেলুন উড়িয়ে আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন