
সংগ্রহীত
আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতাল একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হওয়ায় এর সঙ্গে শত শত মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম জড়িত। চিকিৎসক ও নার্স তৈরিতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসপাতালের কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক হাসপাতালের কার্যক্রম স্থগিত থাকলে এর প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়েও ভাবতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আস্থা ও দেশের স্বাস্থ্যশিক্ষা খাতের আন্তর্জাতিক সুনামের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত আমিরের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকলে সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে রোগী, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সরকারি হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপ রয়েছে। কোথাও কোথাও রোগীদের মেঝেতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হয়। এ পরিস্থিতিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জনবল ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং মানসম্মত ক্লিনিক্যাল শিক্ষার প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমান মানদণ্ডে তদারকি ও আইন প্রয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যশিক্ষা খাতে ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত নীতিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন