
সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল ভবন দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, একাডেমিক কার্যক্রম যথাযথভাবে নিশ্চিত এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে ‘প্রশাসনিক ব্লকেড’ ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে একাডেমিক ভবনের মূল ফটকে ‘শাটডাউন’ ব্যানার টাঙিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
এসময় শিক্ষার্থীরা কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীকে একাডেমিক ভবনে প্রবেশ করতে না দিয়ে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। কর্মসূচি চলাকালে স্থানীয় এলাকাবাসীও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
কর্মসূচি চলাকালে প্রিন্সিপাল এসে সরাসরি শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হন। তিনি জানান, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিটিং হবে।’
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা জানান, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থামাব না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে হবে। স্যার আমাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং আমাদের কর্মসূচিকে সম্মান জানিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।’
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘আমরা গত ১৫ এপ্রিল ২০২৫ সালে সংগঠিত আন্দোলনের পর থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এক বছরের অধিক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও হাসপাতাল চালু হয়নি। একই সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রমেও যথেষ্ট অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই আমাদের দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের ‘প্রশাসনিক ব্লকেড’ ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।’
এর আগে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল ভবন দ্রুত চালুকরণ এবং শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত রোববার (২১ জুন) থেকে ক্লাস বর্জন করে হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, হাসপাতাল চালুর দাবিতে ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল চালু না থাকায় তাঁদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হয় জেলা সদর হাসপাতালে। তবে কলেজ থেকে হাসপাতালটির দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। এ ছাড়া যাতায়াতের জন্য কলেজের কোনো বাস না থাকায় নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ২০২৩ সালে কলেজের সঙ্গে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালুর কথা থাকলেও পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুলাই নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই সময়সীমাও বাড়িয়ে হাসপাতালটি ২০২৬ সালে চালু হবে বলে জানানো হয়।
২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এর প্রায় দুই বছর পর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয় প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন