
সংগ্রহীত
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিভাবকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ও জেলার ১৫টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
রোববার সকালে নগরীর একটি কেন্দ্রে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় তিনি আরও বলেন, কোনো শিশু যেন এই কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যেই চসিক সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইমাম হোসেন রানা।
তিনি ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, গুরুত্ব ও চসিক-এর সার্বিক প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৭৯ জন শিশু ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯০ জন শিশুসহ মোট ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম জেলায় ১৭টি স্থায়ী ও ৪ হাজার ৮০০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। শিশুদের জন্য ১ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ১ লাখ ২ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও ২ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ লাখ ৫৫ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল মজুত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯২ হাজার শিশু ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৭০ হাজার শিশুসহ মোট ৫ লাখ ৬২ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ৪১টি স্থায়ী ও ১ হাজার ২৮০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া, ১ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ১ লাখ ৫ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও ২ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪ লাখ ৯১ হাজার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ করা হয়েছে।
নগরের টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে, সকাল থেকে অভিভাবকরা সন্তানকে নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন।
পশ্চিম বাকলিয়া নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক নুরুল আমিন বলেন, কোনও শিশু যেন বাদ না যায়, সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিসেফ চট্টগ্রাম বিভাগের চিফ অব ফিল্ড অফিস মিসেস মাধুরী ব্যানার্জী, চসিক-এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হোসনে আরা বেগম ও ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী, ইউনিসেফ-এর নিউট্রিশন অফিসার ডা. উবা সুই চৌধুরী ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন