Ad
Advertisement
Doctor TV

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬


শালদুধই শিশুর প্রথম টিকা; কোনো কৃত্রিম ভিটামিন এর বিকল্প নয়

Main Image

শালদুধই শিশুর প্রথম টিকা; কোনো কৃত্রিম ভিটামিন এর বিকল্প নয়


প্রসবের পর সন্তানকে যাতে মা দুধ পান করান, তার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত।

তিনি বলেছেন, “জন্মের পর বাচ্চাদের যেন শাল দুধ খাওয়ানো হয়। কারণ শাল দুধের চেয়ে বড় ভিটামনের স্টক আর কিছু হতে পারে না।

“ছয় মাস থেকে পরে দুধ, মধুসহ সুষম খাবার খাওয়ালে বাচ্চার শরীরে ভালো পুষ্টি পাবে।”


রোববার ঢাকার শাহবাগে আবু সাইদ কনভেনশন হলে  শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সারাদেশের বাচ্চাদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু করেছি; যার মধ্যে ছয় মাস থেকে ১১ মাস বয়সি ৩৫ লাখ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

 

“দুটি মিলে ২ কোটি ৫৫ লাখের বেশি শিশুদের এই ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।”এদিন সারাদেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রথম দিন কোনো শিশু বাদ পড়লে দ্বিতীয় দিন খাবে, দ্বিতীয় দিন বাদ পড়লে তৃতীয় দিন, তৃতীয় দিন বাদ পড়লে চতুর্থ দিন—এভাবে ভিটামিন এ খাওয়ানোর কার্যক্রম চলবে।”

 

টিকার মান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের নিয়ে আসা টিকার মান খুবই ভালো। আন্তজার্তিক টেস্টিং ল্যাবে পরীক্ষিত এসব টিকা।”

টিকা কেন্দ্র ছাড়াও শিশুদের টিকা খাওয়ানোর জন্য লঞ্চ ঘাট, বাস টার্মিনালসহ আরও ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের সোমবার থেকে চারদিন টিকা খাওয়ানো হবে।

শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন কর্মসূচিটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’-কে যুক্ত করা হয়।

 

এরপর ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন।

এ কর্মসূচিটি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হত। ২০১১ সাল থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্লানের অধীনে পরিচালিত হয়। অপারেশন প্লান বিলুপ্ত হওয়ায় এটি ফের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হিসেবে চলছে।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহিদ রায়হান, অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমীম, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী।

আরও পড়ুন