
দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের
ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পেয়ে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের চলমান কর্মবিরতি এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন কর্মসূচি আগামী সাত কার্যদিবসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিবের সাথে চিকিৎসক প্রতিনিধিদের একটি সফল বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য সচিব জানান, সরকারের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন কৌশলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের বর্তমান ভাতা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা বর্তমানের ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে নবম গ্রেডের বেসিক বেতনের সমপরিমাণ, অর্থাৎ ২২ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এফসিপিএস প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদেরও কোনো ধরনের ইনক্রিমেন্ট ছাড়া নবম গ্রেডের সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবি ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ:
১. বেসরকারি ট্রেইনিদের ভাতা নিশ্চিতকরণ: এফসিপিএস পার্ট-১ এবং এমডি/এমএস (ফেজ-১) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে মাসিক ভাতা প্রদান করা হবে।
২. ভাতা বৃদ্ধি: নতুন পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডাক্তারদের ভাতা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা হবে।
৩. স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন: সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৪. বিসিএস-এ বয়সসীমা বৃদ্ধি: বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
৫. পরীক্ষার ফি যৌক্তিকীকরণ: বিসিপিএস এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পদক্ষেপ নেবে।
৬. বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো: বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজে এন্ট্রি-লেভেলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে উপস্থিত চিকিৎসক প্রতিনিধিবৃন্দ:
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ১২ সদস্যের একটি ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন—
ডা. মোস্তফা আমির ফয়সাল (সভাপতি) ও ডা. নাবিল বিন কাশেম (সাধারণ সম্পাদক) – ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল।
ডা. আল মেয়ান শেখ (সদস্য সচিব) – স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) হাসপাতাল।
ডা. মো. ফজলে এলাহী তরুন ও ডা. সাব্বির হোসাইন (সমন্বয়ক) – শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ (এসএইচএসএমসি) হাসপাতাল।
ডা. তানজিম মাহফুজ মজুমদার (সাধারণ সম্পাদক) – মুগদা মেডিকেল কলেজ (মুমেক) হাসপাতাল।
ডা. আল আমিন (সভাপতি) – খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল।
ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির (সভাপতি) – রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল।
ডা. সাকিব হোসাইন (সভাপতি) ও ডা. জামান মোহাম্মদ নুরশাদ (সাধারণ সম্পাদক) – চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল।
ডা. মো. মিসবাহুর রহমান (সভাপতি) ও ডা. মুসফিকুল ইসলাম রাফিন (সাধারণ সম্পাদক) – সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতাল।
আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই সিদ্ধান্তগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে চিকিৎসকেরা পুনরায় তাদের কর্মসূচিতে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরও পড়ুন