
সারাদেশে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা
ছয় দফা দাবিতে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের নবীন চিকিৎসকরা সব ধরনের শিক্ষা ও সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। দাবি আদায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
দেশের অন্যান্য প্রান্তেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে; সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কলেজ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একইভাবে, সকাল ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ইন্টার্ন ও প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের মতে, সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের এই ছয় দফা দাবি বাস্তবায়িত হলে কেবল চিকিৎসকরাই উপকৃত হবেন না, বরং দেশে দক্ষ ও মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরির পথ সুগম হবে এবং রোগীরা আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। তারা জানান, বিদ্যমান কিছু বৈষম্যমূলক নীতিমালা ও বিধিবিধান চিকিৎসকদের অবমূল্যায়ন করছে, যা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে গত শনিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের এক বিবৃতিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) একটি নোটিশের মাধ্যমে তাদের প্রথম দাবিটি পূরণের আশ্বাস দিলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় তারা হতাশ হয়ে এই কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ রবিবার (৭ জুন) থেকে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্টার্নদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে। পাশাপাশি দেশের সব মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সকাল ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জন করবেন। একই সাথে আন্দোলনের গতি বাড়াতে সব মিডলেভেল চিকিৎসককেও এই কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এই ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল, বিএমইউ ও বিসিপিএস ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনা, ইন্টার্নদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ও ট্রেইনিদের নবম গ্রেডে নির্ধারণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন ২০০৬ মেনে সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা।
আরও পড়ুন