
শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়,সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ রোববার (৭ জুন, ২০২৬) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই অর্থদণ্ডের টাকা রামিসার পরিবারকে দেওয়া হবে। যদি আসামিরা এই অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রায় ঘোষণার পূর্বে কঠোর নিরাপত্তায় আসামি দম্পতিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে গত ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। এর ঘণ্টাখানেক পর রামিসার মা তাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে তাদের হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেফতার করে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরদিন, অর্থাৎ ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল ও স্বপ্নাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরই আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে। গ্রেফতারের পর ২০ মে প্রধান আসামি সোহেল রানা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং একই দিনে তার স্ত্রী স্বপ্নাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন, যা ওই দিনই ট্রাইব্যুনাল আমলে নেন।
এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আজ আদালত এই চূড়ান্ত ও ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করলেন।
আরও পড়ুন