ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে ওষুধ কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত প্রচার ব্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিদেশ ভ্রমণ, গালা নাইট কিংবা পাঁচতারকা হোটেলে সেমিনারের মতো আয়োজনে প্রতি বছর শত কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র চিকিৎসকদের জন্যই কোম্পানিগুলোকে প্রায় ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভে বক্তারা এ বিষয়টি তুলে ধরেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান।
সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলোর অডিট রিপোর্টে দেখা গেছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান শুধু প্রচারে ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ দেখিয়েছে। পাঁচতারকা হোটেলের একটি সেমিনারে কোটি টাকা, গালা নাইটে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। একসঙ্গে ৪০ জন করে চিকিৎসক বিদেশ যান। স্পেন, ব্রাজিল কিংবা দেশের পর্যটন এলাকায় সময় কাটান। সবই আমাদের কাছে নথিভুক্ত আছে। বিতর্ক করবেন না, আমরা তথ্যসহ বলছি।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক লাখ ৪০ হাজার চিকিৎসকের মধ্যে হয়তো এক লাখ কোনো অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নেন না। বাকি ৪০ হাজার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ব্যয় শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবার খরচ বাড়িয়ে তুলছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান বলেন, সরকারের একার পক্ষে ১৭ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ খাতের ৭৩ শতাংশ সেবা আসছে সরকারের বাইরে থেকে। এ জন্য বেসরকারি ও এনজিও খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারা স্বাস্থ্যসেবাকে ব্যবসায়িক মুনাফার বাইরে এনে নিয়ন্ত্রিত ও মানুষের আস্থার খাতে পরিণত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সুসংহত করার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যসেবার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি ও এনজিও খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভারত ও চীনের স্বাস্থ্যসেবার পক্ষে প্রচারণা বন্ধেরও আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন