Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫


জ্ঞান ফিরেছে তামিমের, কথাও বলেছেন

Main Image

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল


হার্ট অ্যাটাকে লাইফ সাপোর্টে থাকা জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের জ্ঞান ফিরেছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা তামিম স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। বিকেলে কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

 

সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে সিসিডিএম সমন্বয়কারী সাব্বির আহমেদ রুবেল জানিয়েছেন, ‘জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন তামিম এবং তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’ তবে এখনো তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। 

 

হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল খানকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দল। টানা ২২ মিনিট ধরে সিপিআর দেওয়া হয় তাকে। পাশাপাশি তিন তিনবার ডিসি শক দেওয়ার হার্ট সচল হয় তাঁর।  

 

চিকিৎসকদের ভাষায়, তামিমের হার্ট কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছিল বার বার করে। ফিরে আসার সম্ভবনা শূন্যের ঘরে যাচ্ছিল প্রতি সেকেন্ডে। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং সাভারের কেপিজে হাসপাতালের চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতায় সফল এঞ্জিওগ্রাম ও প্রাইমারি পিসিআই (স্টেন্টিং) সম্পন্ন করা হয়। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম। পরে জানা যায়, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তার। চিকিৎসকরা দ্রুত এনজিওগ্রাম করে হার্টে ব্লক শনাক্ত করেন এবং সফলভাবে রিং পরানো হয়।

 

এদিকে সোমবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালের মিডিয়া ডিরেক্টর ডা. রাজীব হাসান জানান, ‘তামিম ইকবাল ভাই আজকে সকালে সাড়ে ৯টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় তাকে এখানে আনা হয় এবং চিকিৎসা শুরু হয়। পরবর্তীতে চিন্তা করি যে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া যাবে না। বিভিন্ন কারণে ঢাকায় নেওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল হয়ে যায়। ওই অবস্থায়ই তিনি আবার আসেন। ওই ক্রিটিক্যাল কন্ডিশন থেকে যতগুলো চিকিৎসা প্রয়োজন, সব কিছু করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে কন্ডিশন এখন অনুকূলে আছে। তার একটা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তাই একটা এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি ও একটা স্টেন্ট করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে উনার স্টেন্টিং খুব স্মুদলি ও এফিশিয়েন্টলি হয়েছে। ডাক্তার মারুফ এই স্টেন্টিং করেছেন। এখন ওই ব্লকটা পুরোপুরি চলে গেছে। আমরা যেমনটা বলছিলাম, একটু ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে ছিল, স্টেন্টিংয়ের পর এখন পর্যবেক্ষণে আছেন। ক্রিটিক্যাল অবস্থা এখনও কাটেনি। একটু সময় লাগবে। আমরা সবাই প্রাণপণ চেষ্টা করছি।’

 

উল্লেখ্য, সোমবার বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে চলছিল ডিপিএলের অষ্টম রাউন্ডের ম্যাচ। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নেমে মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করেন তামিম। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ককে দ্রুতই হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগে তামিমকে নিতে হেলিকপ্টারও আসে। কিন্তু পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় পাশে থাকা কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।  

আরও পড়ুন