অগ্ন্যাশয় ক্যানসার হলো এমন একটি রোগ যেখানে পাকস্থলীর পেছনে থাকা অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) অঙ্গের কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে টিউমার তৈরি করে। এই অঙ্গটি খাবার হজমের রস এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখার ইনসুলিন হরমোন তৈরি করে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। এ রোগের প্রধান কারণ পিত্তনালির পাথর। অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের মূল কারণটিই হলো অতিরিক্ত মদ্যপান। কোনো কারণে দেহে লিপিড কিংবা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে বা দেহে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি হলে এ রোগ দেখা দেয়। অগ্ন্যাশয়ে আঘাত লাগলেও প্যানক্রিয়াটাইটিস হতে পারে। এ ছাড়া কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে। যেমন: স্টেরয়েড, মাম্পসজাতীয় রোগের জটিলতা হিসেবে, কিছু কিছু অপারেশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে প্যানক্রিয়াটাইটিস হতে পারে। জিনগত কারণ অথবা একেবারে অজানা কারণেও এটা হতে পারে।

কিছু প্রাথমিক লক্ষণের মাধ্যমে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব—
১. বারবার জন্ডিসে আক্রান্ত হলে সেটি মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ বারবার জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়া।
২. খাবারে একটু অনিয়ম হলেই বদহজম একটি সাধারণ সমস্যা। তবে যদি দেখেন, ওষুধ খাওয়ার পরেও মাঝেমাঝেই এই সমস্যা নাড়া দিয়ে উঠছে, তাহলে কিন্তু চিন্তার বিষয়। বদহজমও কিন্তু অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ।
৩. ক্রণিক প্যানক্রিয়াসাইটিস হলে পেটে তীব্র যন্ত্রণা হয়। পেটের উপর থেকে শুরু হওয়া এই যন্ত্রণা ক্রমশ পেট থেকে পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি বুকে ব্যথা ও বমিও হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে। তাই বারবার জন্ডিস হওয়া মানেই ক্যানসার নয়, তবে এটি কোনো বড় বা দীর্ঘমেয়াদি লিভার, পিত্তনালী কিংবা অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে
যাদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে বা কোলনে সমস্যা আছে, তাদের বেশি সতর্ক হতে হবে। পাকস্থলী বা পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচার হলে, পিত্তথলিতে বার বার পাথর জমার লক্ষণ দেখা দিলেও সাবধান হতে হবে। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শুরুতে ধরা না পড়লে, তা রোগীর পক্ষেই বিপজ্জনক।