ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু চিনি বাদ দেওয়া বা স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই যে রক্তে শর্করা সব সময় নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনটা নয়। খাবারের পাশাপাশি মানসিক চাপ, খাওয়ার সময়সূচি, প্রোটিন গ্রহণসহ জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয়ও রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেরকম একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন ভারতের নামকরা পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ। তার এক ডায়াবেটিস রোগী নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতেন এবং চিনি এড়িয়ে চলতেন। পাশাপাশি ইনসুলিন ও গ্লাইকোমেটও গ্রহণ করতেন। তারপরও তার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল হচ্ছিল না।
ইনস্টাগ্রামে শ্বেতা শাহ জানান, ওই রোগীর সমস্যার পেছনে খাবারের চেয়ে জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস বেশি দায়ী ছিল। এর মধ্যে ছিল অতিরিক্ত মানসিক চাপ, চায়ের সঙ্গে নিয়মিত বিস্কুট খাওয়া, খাবারের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি এবং কম প্রোটিন গ্রহণ।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ
পুষ্টিবিদের মতে, ওই রোগী দিনের বেশিরভাগ সময়ই মানসিক চাপের মধ্যে কাটত। অতিরিক্ত স্ট্রেসে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোনের মাত্রা বাড়াতে পারে। এতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গিয়ে রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে।
চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস
অনেকে চিনি ছাড়া চা পান করলেও এর সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখেন। কিন্তু বেশির ভাগ বিস্কুটে কার্বোহাইড্রেট ও চিনি থাকে, যা দ্রুত রক্তে গ্লুকোজ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ফাইবার ও প্রোটিন ছাড়া বারবার এমন খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রায় অস্বাভাবিক উঠানামা হতে পারে।
খাবারের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অনেকক্ষণ পর খাবার খেলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে খাবারের পর রক্তের শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়া
খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলেও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে। প্রোটিন খাবার হজমের গতি ধীর করে এবং গ্লুকোজের শোষণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে রক্তে শর্করা মাত্রা তূলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।
পুষ্টিবিদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু চিনি বাদ দেওয়া বা ওষুধ খাওয়াই যথেষ্ট নয়। সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত প্রোটিন, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সবকিছুর সমন্বয়েই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।