স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়তে গিয়ে অনেকেই চিনি বাদ দিয়ে গুড়কে বেছে নেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কিংবা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে গুড়কে অনেকে ‘প্রাকৃতিক’ ও নিরাপদ বিকল্প মনে করেন। কিন্তু সত্যিই কি চিনি থেকে গুড়ে যাওয়াই স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত? পুষ্টিবিদদের তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।
চায়ের কাপে চিনি কমেছে, মিষ্টিতে জায়গা নিয়েছে গুড়—স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যাভ্যাসে এমন পরিবর্তন এখন বেশ পরিচিত। ‘প্রাকৃতিক’ শব্দটির কারণেই অনেকের ধারণা, পরিশোধিত চিনির তুলনায় গুড় নিশ্চয়ই শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু গুড়ও মূলত মিষ্টি করার উপাদান। তাই শুধু চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করলেই খাবারটি স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না।

ক্যালোরিতে তেমন পার্থক্য নেই
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো মোট ক্যালোরি গ্রহণ। এই জায়গায় চিনি ও গুড়ের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য নেই। এক টেবিল চামচ চিনিতে প্রায় ৬০ ক্যালোরি থাকে। একই পরিমাণ গুড়েও প্রায় সমান ক্যালোরি পাওয়া যায়।
অর্থাৎ চিনি বাদ দিয়ে একই পরিমাণ গুড় খেলে ক্যালোরি গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না। ফলে শুধু এই একটি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে ওজন কমানোর প্রত্যাশা করা ঠিক নয়।
ডায়াবেটিসেও কি গুড় নিরাপদ?
গুড়কে অনেক সময় ডায়াবেটিসবান্ধব মনে করা হয়। কিন্তু রক্তে শর্করার ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করলে সেই ধারণার পক্ষে খুব বেশি সুবিধা দেখা যায় না। সাধারণ চিনির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই প্রায় ৬০, যেখানে গুড়ের জিআই প্রায় ৭০।

ফলে চিনি বাদ দিয়ে গুড় ব্যবহার করলেই কোনো খাবার বা পানীয় কম ক্যালোরিযুক্ত কিংবা ডায়াবেটিসবান্ধব হয়ে যায় না। বরং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য গুড়ও পরিমাণের হিসাব করে খাওয়া জরুরি।
গুড়ে কি বাড়তি পুষ্টি আছে?
চিনির তুলনায় গুড়ের পক্ষে সবচেয়ে বেশি যে যুক্তিটি দেওয়া হয়, তা হলো—এতে কিছু খনিজ উপাদান থাকে। ফলে অনেকেই গুড়কে বেশি পুষ্টিকর মনে করেন। সত্যি, গুড়ে সামান্য কিছু খনিজ থাকতে পারে। তবে সেই পরিমাণ এত কম যে এটিকে এসব পুষ্টির উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

উদাহরণ হিসেবে, এক টেবিল চামচ গুড়ে প্রায় ১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রন পূরণে এই পরিমাণ খুবই সামান্য।
তাহলে কী করবেন?
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অর্থ শুধু চিনির পরিবর্তে গুড় বেছে নেওয়া নয়। বরং চিনি, গুড়সহ সব ধরনের অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার ও পানীয়ের পরিমাণ কমানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও খাবারের সামগ্রিক ক্যালোরি, পুষ্টিমান ও পরিমাণের দিকে নজর দিতে হবে।

বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে নিজের মতো করে খাদ্যাভ্যাস বদলানোর পরিবর্তে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। পাশাপাশি চিনির বদলে গুড় খাওয়ার চেয়ে মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসে সংযমী হলে সুস্থ্য থাকা সহজ।