রাতে পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকার পরও ঘুম না আসা বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ব্যস্ততা ও জীবনযাপনের নানা অভ্যাসের পাশাপাশি শরীরে কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও ঘুমের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে কোনো একটি ভিটামিনের ঘাটতিই যে অনিদ্রার একমাত্র কারণ—এমনটি বলা যায় না। তাই ঘুমের সমস্যায় অপ্রয়োজনীয় ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ভিটামিন ডি: হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ভিটামিনের ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। রোদের আলো ছাড়াও ডিম, দুধ ও সামুদ্রিক মাছ থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কোষকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। ঘুমের গুণগত মানের সঙ্গেও এর সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পালং শাক, ব্রকলি ও টমেটো ভিটামিন ই-এর উৎস।
ভিটামিন সি: এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পর্যাপ্ত ভিটামিন সি গ্রহণ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। কমলা, লেবু, পালং শাক ও ফুলকপিতে এ ভিটামিন পাওয়া যায়।
ভিটামিন বি-৬: শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুমের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা রয়েছে। কলা, গাজর, আলু, ডিম, মাছ, পালং শাক ও গোটা শস্যদানা থেকে ভিটামিন বি-৬ পাওয়া যায়।

ভিটামিন বি-১২: মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের ধরন ও ঘুমের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। দুধজাতীয় খাবার ও প্রাণিজ প্রোটিন ভিটামিন বি-১২-এর উৎস।
ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে শুধু ভিটামিনের ঘাটতিকে কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপন, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।