সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সম্প্রতি একের পর এক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেই চলছে। শুধু চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে সারাদেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, সহিংসতা, অপহরণ ও হাসপাতালে ভাঙচুরের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
রোগীর মৃত্যুতে উত্তেজনা, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ কিংবা তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় হাসপাতালে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েই চলছে। এসব হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরাও। চাঁদার জন্য চিকিৎসকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
দেশের এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের ভেতর এবং বাইরেও শঙ্কায় থাকেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে যারা প্রাণপণ লড়াই করেন, তারাই এখন ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

সর্বশেষ মাত্র একদিনের ব্যবধানে অন্তত চারটি হাসপাতালে ভাঙচুর এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী চিকিৎসকসহ ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কয়েকজন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডোবা এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই চিকিৎসক ও এক আনসার সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারী চিকিৎসকও রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবে যায় তিন বছরের এক শিশু। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ করেন। পরে ১১ নম্বর মেডিকেল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান তারা। এ ঘটনায় ডা. আব্দুস সামাদ ও ডা. জান্নাতুল রিয়া নামে দুই চিকিৎসক ও এক আনসার সদস্যসহ চারজন আহত হন।

এর আগে, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ও বৃহস্পতিবার (১৭) দিনে টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও বগুড়ায় চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
টাঙ্গাইলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর জেরে কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর রোগীর স্বজনরা হামলা ও মারধর করেন। এর প্রতিবাদে সেদিন দুপুরে জরুরি বিভাগে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করে কলেজের শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসে আন্দোলন বন্ধ করেন তারা।

চিকিৎসকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে এক রোগীর মৃত্যুর জেরে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর রোগীর স্বজনরা হামলা ও মারধর করেন। পরে অভিযুক্তকে ধরার জন্য প্রশাসনের কাছে গেলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সে জন্য তারা বিক্ষোভ করেন।
গাজীপুরে চিকিৎসক-নার্সদের ওপর হামলা
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর স্বজনদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে মুমূর্ষু এক রোগীর মৃত্যুর জেরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজন নারী চিকিসকও আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অবস্থা সংকটপন্ন হওয়ায় ওই রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগেই অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা রোগীকে নিয়ে বাসায় চলে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় রোগীকে তাজউদ্দীন মেডিকেলে আনা হয়।
রোগীকে আনার সাথে সাথেই দ্রুত ইসিজি করানো হয় এবং টানা সিপিআর দেওয়া হয়। রোগীর কোনো পালস না থাকায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদা রানী। এসময় রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে জরুরি বিভাগের ডাক্তারদের চেম্বার, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।
বগুড়ায় আনসার সদস্যদের ওপর হামলা
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের হামলায় চার আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। আহত আনসার সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, রাতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত এক তরুণকে নিয়ে তার কয়েকজন বন্ধু হাসপাতালে আসেন। জরুরি বিভাগের সামনে রোগীকে ট্রলিতে নেওয়া কেন্দ্র করে ট্রলিম্যানদের সঙ্গে ওই যুবকদের প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা এক ট্রলিম্যানকে মারধর করেন। এ সময় টহলরত আনসার সদস্যরা এগিয়ে গিয়ে ওই ট্রলিম্যানকে উদ্ধার করেন।
কিছুক্ষণ পর ওই যুবকরা আবারও ওই ট্রলিম্যানকে খুঁজতে থাকেন। পরে তাকে দ্বিতীয় দফায় মারধর শুরু করলে তাকে রক্ষা করতে যান আনসার সদস্যরা। এ সময় ওই যুবকরা আনসার সদস্যদের ওপরও চড়াও হয়ে মারধর করেন।
চলতি বছর চিকিৎসকদের ওপর হামলার উল্লেখযোগ্য ঘটনা
চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, সহিংসতা, অপহরণ ও হাসপাতালে ভাঙচুরের প্রায় অর্ধ শতাধিক ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ৯ মাসের শিশু আয়ান আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর তার এক স্বজন ফেসবুক লাইভে এসে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেন। এরপর হাসপাতালের পিআইসিইউতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কিন্তু গত ১৩ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনায় পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পায়নি বলে জানায় এবং ভাঙচুরকে ফৌজদারি অপরাধ বলে উল্লেখ করে।

এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ডা. এম ওয়াই এফ পারভেজ অভিযোগ করেন, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতারা তাঁর চেম্বারে এসে হত্যা করার কথাও বলেছিল বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
আগের দিন, ২ সেপ্টেম্বর নাটোর সদর উপজেলায় চেম্বারে ঢুকে আনোয়ারুল ইসলাম নামে এক হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
তার আগের দিন, ১ সেপ্টেম্বর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ছয়জন ইন্টার্ন আহত হন। এছাড়া, গত ১৩ মে একই হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে।
এদিকে, গত ২১ আগস্ট ময়মনসিংহে পোষা বিড়ালের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. মো. আশিকুর রহমানের ওপর হামলা, চেম্বারে ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে।
একই দিনে নরসিংদীর মনোহরদীতে ল্যাবএইড আই অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ উঠে। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

এর মাত্র দুদিন আগে, ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর পূর্বাচলের ১৯ নম্বর সেক্টরের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে হাত, চোখ, মুখ বাঁধা অবস্থায় দন্ত্য চিকিৎসক হাসিবুর হাসানকে (৪৩) উদ্ধার করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় জলসিঁড়ি মাস্টার ফার্মেসিতে রোগী দেখার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য কুড়িল বিশ্বরোডের পাশ থেকে একটি চক্র ওই চিকিৎসককে অপহরণ করে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোন নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর তাকে হাত, চোখ, মুখ বাঁধা অবস্থায় জঙ্গলে ফেলে যায়।
এ ঘটনার মাত্র দুদিন আগে, ১৭ আগস্ট রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান। সন্ত্রাসীদের হামলায় ডা. আসাদুরের দুই চোখের কর্নিয়া ও রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। তাঁর অভিযোগ, হামলার পর মোবাইল ফোনে কয়েক দফা হুমকি দেওয়া হয় তাকে। আর হামলার আগে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা।
এর আগের দিন, ১৬ আগস্ট রাতে রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধর করার অভিযোগ উঠে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী চিকিৎসক হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্টের মেডিকেল অফিসারকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সকেও মারধর করার অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনার আগের দিন, ১৫ আগস্ট রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ওয়ার্ডবয়ের ওপর হামলা এবং হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
পূর্ববর্তী মাস জুলাইয়ের ২৭ তারিখ রাজধানীর ধানমন্ডি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হকের গাড়ি আটকে তাঁকে কয়েকজন হুমকি দেয়। পুলিশ জানায়, চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে এই হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে, গত ১২ জুলাই নাটোরের আলাইপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনরা ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।
একই দিনে নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করেন।

এর আগে, ৭ জুলাই জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা নারীর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনরা এক চিকিৎসকের ওপর হামলা করেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও ছড়িয়ে পড়ে
একই দিনে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন, শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে ইন্টার্নরা কর্মবিরতিতে যান।
তার দুদিন আগে, ৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্যান্য সেবা সাময়িক বন্ধ রাখেন।
আগের মাস জুনের ২৮ তারিখ নাটোরের আল সান হাসপাতালে স্ট্রোকে আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যুর পর চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতাল ভাঙচুর ও কর্মীদের সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এর আগে, ২৩ জুন রাতে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। জানা যায়, রোগীর চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ২০-২৫ মিনিট দেরি হওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে হিমেল ও তার সাথে থাকা ১০-১২ জন কর্তব্যরত সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন। ঘটনার সময় অভিযুক্ত হিমেল নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে এক চিকিৎসকের কলার চেপে ধরেন বলে অভিযোগ উঠে।

এদিকে, ১৮ জুন কুমিল্লার মেডি কমপ্লেক্সে (সৌহার্দ্য হাসপাতাল) গর্ভবতী রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘মব’ সৃষ্টি এবং কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসারের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার দুদিন আগে, ১৬ জুন কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং জিকে হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
তার আগে, ১৩ জুন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর স্বজনরা দায়িত্বরত তিন চিকিৎসকের ওপর হামলা করেন।
এর আগে, গত ১০ জুন বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তার আগে, গত ১৫ মে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর করেন এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামকে মারধর করেন। গুরুতর আহত চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়।

তার পূর্ববর্তী এপ্রিল মাসের ২৯ তারিখ কুষ্টিয়ায় একতা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বজনরা হাসপাতাল ভাঙচুর করেন এবং দুই চিকিৎসককে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এর আগে, ২৪ এপ্রিল গাজীপুরের গাছায় জমিলা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ফার্টিলিটি কেয়ার সেন্টারে এক নারী চিকিৎসকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির পাশাপাশি হাসপাতালে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
আগের দিন, ২১ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠে। এর প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এর আগের দিন, ২০ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বাসায় ফেরার পথে হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেন ছুরিকাঘাতে আহত হন। পরে তদন্তে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে।
এদিকে, গত ১৬ এপ্রিল পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সঞ্জৎ কুমার রায়কে মারধর করার অভিযোগ উঠে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে।

একই দিনে মাদারীপুরের পানিছত্রে কেআই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এক নারী রোগীর মৃত্যুতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে স্বজনরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর করেন।
এদিকে, গত ১০ এপ্রিল ঢাকার শ্যামলীতে প্রখ্যাত চিকিৎসক কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর সিকেডি হাসপাতালে যুবদল নেতা পরিচয়ে এক ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হাসপাতালের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ ও কর্মীদের হুমকি দিয়েছে।
তার আগে, ৮ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেসক্রিপশনের ওষুধ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জরুরি সেবা বন্ধ করেন।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আহমেদ প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ৪ ও ৫ এপ্রিল দুই দফায় ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
আগের মাস মার্চের ২৯ তারিখ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষপান করা রোগীর চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া, জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

গত ২৫ মার্চ বরিশালের গৌরনদীতে রোগীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় টেস্টে টাকা কম নেওয়ার সুপারিশ করায় চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘পদ্মা প্যাথলজি’র মালিক মো. হান্নান সরদারের বিরুদ্ধে পরদিন ২৬ মার্চ ভুক্তভোগী চিকিৎসকের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর আগে, ১০ মার্চ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যুর পর তাঁর সঙ্গীরা হাসপাতালে জড়ো হয়ে জরুরি বিভাগের দরজা-গ্লাস ভাঙচুর করেন।
আগের দিন, ৯ মার্চ গাজীপুরের শ্রীপুরে লাইফ কেয়ার হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ও অপারেশন থিয়েটারে ব্যাপক ভাঙচুর করেন।
এর আগে, ৪ মার্চ চাঁদপুর শহরের তালতলা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে।

এর পূর্ববর্তী মাস ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ পটুয়াখালীর মহিপুরে কেয়ার মডেল হাসপাতালে ১০–১২ জনের একটি দল হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। সিসিটিভি ফুটেজের উল্লেখ করে এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এর দুদিন আগে, ১৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার ঠনঠনিয়ায় প্রভাতী ডায়াগনোস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে গর্ভবতী নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
তার আগে, ১৬ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুরের মল্লিকপাড়ায় মেহেরপুর ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে এক নারীর মৃত্যুর পর স্বজনরা ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং দুই চিকিৎসককে মারধর করেন।

এছাড়া, ১৩ ফেব্রুয়ারি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আসাদুর রহমান ও পুলিশের বিশেষ শাখার এক কনস্টেবলের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১০–১২ জনের একটি দল চিকিৎসক ডা. আসাদুর রহমানকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর করে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির ২১ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের হামলায় কয়েকজন চিকিৎসক ও হাসপাতালকর্মী আহত হন। এরপর চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ থাকে।
তার আগের দিন ২০ জানুয়ারি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন। ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেন।

এছাড়া, ১৬ জানুয়ারি সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে রোগীর স্বজনরা ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের ওপর হামলা করেন। এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক হেনস্তার শিকার হন।
এর আগে, ১২ জানুয়ারি ভোলার বন্ধন হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্লিনিক ঘেরাও, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের চেষ্টা করেন।
চলতি বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি শরীয়তপুরের ডামুড্যায় পল্লী চিকিৎসক খোকন চন্দ্র দাসের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।