সম্প্রতি চাঁদার জন্য রাজধানীতে দুই চিকিৎসকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হামলায় অংশ নেওয়া বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রাজধানীর শনির আখড়া ও নিকুঞ্জ-২ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—সানি সাহা (৩৮) ও ফাতিন ইসরাক লাবিব (২০)। দুজনের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
এর আগে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান এবং আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হকের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সানি সাহা সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় মানি লন্ডারিং চক্রের ফাঁদে পড়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খোয়ায়। পরবর্তীতে দেশে ফিরে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অপরাধ চক্র গড়ে তোলে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমাজের প্রভাবশালী ও ধনকুবেরদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের দায়িত্ব পায় সানি। সে অনুযায়ী দুই সিনিয়র চিকিৎসককে টার্গেট করা হয় এবং ভাড়াটে ক্যাডার দিয়ে তাদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সানি সাহা এক লাখ টাকার বিনিময়ে ফাতিন ইসরাক লাবিব নামের এক তরুণকে সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়। লাবিব নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে আবু বকর (১৮), রাতুল (১৯), ইবান (২২), জীবন (২১) এবং সাব্বির (১৮) নামের স্থানীয় পাঁচজনকে ভাড়ায় এনে চিকিৎসকের ওপর হামলাটি পরিচালনা করে। এদের মধ্যে ইবান (২২) ও জীবনকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডি থানাধীন ৪ নম্বর রোডে ৫ জন দুষ্কৃতকারী গাড়ি প্রতিরোধ করে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল হাসপাতালের ইএনটি মেডিসিনের অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হককে হুমকি প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে নিজ বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে বের হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান। রাত আনুমানিক পৌনে ১০টায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পাকা রাস্তায় তিনি একটি সিএনজিতে ওঠার সময় জীবন ওরফে আদিলসহ কয়েকজন তার সিএনজির গতিরোধ করে।

এ সময় গতিরোধের কারণ জানতে চাইলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে সিএনজি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল চিকিৎসকের ডান চোখে গুরুতর জখম করে। অন্য আসামিরা তার মাথা, দুই চোখের ওপরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় তারা চিকিৎসককে ভয়ভীতি ও হুমকিও প্রদান করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি পল্টন মডেল থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জীবন ওরফে আদিলকে আটক করে। এ সময় অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আহত চিকিৎসক চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
এ ঘটনায় ডা. মো. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে চিকিৎসকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।

ঘটনার পর হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্ত শুরু করে ডিবি। তদন্তের ধারাবাহিকতায় রবিবার (২২ আগস্ট) রাত ১২টা যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া গোয়ালপাড়া কদমতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সানি সাহাকে এবং রাত আড়াইটায় খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফাতিন ইসরাক লাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।