সারাদেশে চিকিৎসকদের ওপর একের পর এক হামলা, মারধর ও নিপীড়নের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তায় বা কর্মস্থলে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আজ একজনের ওপর হামলা হচ্ছে, কাল অন্যজন শিকার হবেন। অবিলম্বে এই নৈরাজ্য বন্ধ করে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের যে কোনো প্রাকৃতিক বা জাতীয় দুর্যোগে চিকিৎসকরাই জীবন বাজি রেখে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অথচ, সেই চিকিৎসকদেরই বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার শিকার হতে হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে হাসপাতালগুলোতে যে হরিলুট ও দুর্নীতি হয়েছে, তার কারণেই আজ চিকিৎসাসামগ্রীর চরম সংকট। এর মাশুল দিতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। একটি বিশেষ মহল চক্রান্ত করে চিকিৎসকদের ওপর এসব পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মানববন্ধনে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করে অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। কোনো চিকিৎসকই চান না রোগীর ক্ষতি হোক। তারা সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেবা দেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অভিভাবক হিসেবে আপনাদের অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপর আর কোনো চিকিৎসকের ওপর আঘাত এলে আমরা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।

কর্মসূচি থেকে চিকিৎসকদের কর্মকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো- চিকিৎসকদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি হামলা ও নিপীড়নের ঘটনায় অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তায় একটি কার্যকর ও বাধ্যতামূলক ‘জাতীয় সুরক্ষা নীতিমালা’ প্রণয়ন করা, দেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালকে চিকিৎসকদের জন্য শতভাগ নিরাপদ কর্মস্থলে রূপান্তর করা।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের বিভিন্ন স্তরের শতাধিক চিকিৎসক ও সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।