কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডোবা এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই চিকিৎসক ও এক আনসার সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারী চিকিৎসকও রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এর আগে, সকাল ৮টায় উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে তিন বছরের শিশু রাফি পুকুরে ডুবে যায়। শিশুটি ওই গ্রামের সাব্বির হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবে যায় রাফি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ করেন। পরে ১১ নম্বর মেডিকেল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান তারা। এ ঘটনায় ডা. আব্দুস সামাদ ও ডা. জান্নাতুল রিয়া নামে দুই চিকিৎসক ও এক আনসার সদস্যসহ চারজন আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে রকির মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মারধর ও হাসপাতালে ভাংচুরের ঘটনা অস্বীকার করেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল রিয়া বলেন, স্বজনদের প্রিয়জন হারানোর বেদনা আমরা সহানুভূতির সঙ্গে দেখি। তবে হাসপাতালে জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের সনাক্তসহ গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।