অনেক সময় মানসিক চাপকে গুরুত্ব না দিলেও এর প্রভাব শরীরের ওপর বেশ গভীর হতে পারে। দীর্ঘদিনের বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ ধীরে ধীরে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। এর মধ্যে চুল পড়ার সমস্যাও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপের সঙ্গে চুল পড়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
মানসিক চাপের কারণে মূলত তিন ধরনের চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
টেলোজেন এফ্লুভিয়াম:
তীব্র মানসিক চাপের ফলে মাথার বিপুলসংখ্যক চুলের গোড়া স্বাভাবিক বৃদ্ধির পর্যায় থেকে বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এর কয়েক মাস পর চুল আঁচড়ানো বা গোসলের সময় হঠাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি চুল ঝরতে দেখা যায়।

ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া:
এটি এমন একটি মানসিক সমস্যা, যেখানে ব্যক্তি নিজের চুল, ভ্রু বা শরীরের অন্যান্য অংশের চুল টেনে তোলার প্রবল তাড়না অনুভব করেন। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকীত্ব, একঘেয়েমি বা হতাশার মতো অনুভূতি থেকে নিজেকে সামলানোর একটি উপায় হিসেবেও কেউ কেউ চুল টানতে পারেন।
অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা:
এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত চুলের গোড়ায় আক্রমণ করে, ফলে চুল ঝরে যেতে পারে। এর সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও তীব্র মানসিক চাপ এর অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে মনে করা হয়।

তবে মানসিক চাপের কারণে হওয়া চুল পড়া সবসময় স্থায়ী হয় না। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি আবার ফিরে আসতে পারে। হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় চুল উঠে যাওয়া কিংবা চুল আঁচড়ানো বা ধোয়ার সময় অস্বাভাবিক পরিমাণে চুল ঝরতে দেখলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ আকস্মিক চুল পড়া কখনও কখনও শরীরের অন্য কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক কারণ শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।