ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ তদন্ত এবং অনুমোদহীন সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ কমিটি গঠন করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামতসহ আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে কমিটির আহ্বায়ক এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির বকি সদস্যরা হলেন- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু ও বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, অপচিকিৎসা প্রদান ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ৫ মে অভিযোগ দাখিল করেন অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ। অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে, অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদসহ ঢামেকের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে অভিযোগ করেন, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হেলথ রেভুলেশন লিমিটেড রোগীর ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ ও উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর রোগীর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। পরে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গত ২ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।