আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই জারি হতে পারে সরকারি চাকরির নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে। ওইদিন অনুমোদন পেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার কত হবে, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

এর আগে, গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এটি ঘোষণা করা হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন এ বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কোন গ্রেডে কতো বাড়বে বেতন
নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই নিচের গ্রেডভিত্তিক বেতনকে নিশ্চিত বেতন না ধরে প্রস্তাবিত বা সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে।
১ম গ্রেডে নির্ধারিত মূল বেতন হতে পারে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২য় গ্রেডে মূল বেতন ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং ৩য় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা হতে পারে। ৪র্থ গ্রেডে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা, ৫ম গ্রেডে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব রয়েছে।

৭ম গ্রেডে মূল বেতন ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা হতে পারে। ৮ম গ্রেডে ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং ৯ম গ্রেডে ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা হতে পারে। ১০ম গ্রেডে মূল বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা হতে পারে।
১৩তম গ্রেডে মূল বেতন ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা। ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা হতে পারে। ১৬তম গ্রেডে মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা। ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা হতে পারে।১৯তম গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা। আর ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।