বগুড়ার শেরপুরে স্বীকৃত ডিগ্রি ও সনদ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থাপত্র লেখা ও অবৈধভাবে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা করে আসছিলেন ভুয়া এক চিকিৎসক। এসব অভিযোগে সুনীল কুমার বিশ্বাস (৫০) নামের ওই ভুয়া চিকিৎসককে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে শেরপুর পৌরসভার হাটখোলা সড়কের স্যানালপাড়া এলাকায় সুনীল কুমারের ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার চেম্বার থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনীল কুমার বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা চিকিৎসা সনদ ছাড়াই স্যানালপাড়া এলাকায় চেম্বার খুলে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তিনি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি নিষিদ্ধ ওষুধ প্রেসক্রাইব এবং অবৈধভাবে অস্ত্রোপচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুজ্জামান হিমু। অভিযানকালে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আমিরুল ইসলাম।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে শেরপুর থানা-পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করেছে। জনস্বার্থে ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।