দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবনের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক হাসপাতালে দিনে বেশ কয়েকবার লোডশেডিং হচ্ছে।
তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
বিদ্যুৎ চলে গেলেই হাসপাতালের দৃশ্যপট পাল্টে যায়। সুই-সিরিঞ্জের পাশে দেখা যায় হাতপাখা, আর বেডের পাশে জ্বলতে থাকে মুঠোফোনের টর্চ। তীব্র গরমে অসুস্থ রোগীদের কষ্ট বাড়ে বহুগুণ।

লোডশেডিংয়ের সময় শহরের অনেক হাসপাতালে জেনারেটর চালু করে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া হলেও দেশের প্রান্তিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেই সুবিধা নেই। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালে থাকা রোগী, তাদের স্বজন এবং চিকিৎসক আর স্বাস্থ্যকর্মীদেরও দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় মাসখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, বাসায় যেমন বিদ্যুৎ নেই, হাসপাতালেও একই অবস্থা। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ অজ্ঞানও হয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, দিনের চেয়ে রাতের দুর্ভোগ আরও বেশি। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কখনো বিদ্যুৎ এলেও ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই আবার চলে যায়।

রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ চিত্র এখন খুবই সাধারণ। দিনে বেশ কয়েকবার লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম। বিঘ্নিত হচ্ছে প্যাথলজি পরীক্ষা ও অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রমও। ফলে জরুরি ও জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি এবং রোগীদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে কার্যকর ব্যাকআপ বিদ্যুৎব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তা না হলে বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র গরমে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।