উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সকালে নাকি রাতে খাওয়া ভালো—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তবে ২১ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে কিংবা রাতে ওষুধ খাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই।
২০২২ সালে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত গবেষণাটির নাম ‘টাইম’ (TIME) ট্রায়াল। যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এ গবেষণায় উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ২১ হাজার ১০৪ জন অংশ নেন। তাঁদের এক দলকে সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে এবং অন্য দলকে রাত ৮টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে রক্তচাপের ওষুধ খেতে বলা হয়।
অংশগ্রহণকারীদের গড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, রাতে ওষুধ গ্রহণকারী দলের ৩৬২ জন এবং সকালে ওষুধ গ্রহণকারী দলের ৩৯০ জনের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে। দুই দলের মধ্যে এসব ঘটনার ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

স্কটল্যান্ডের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টম ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়ার সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে রোগীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও নিয়মিত ওষুধ গ্রহণের সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। এমন সময় বেছে নেওয়া উচিত, যা সহজে মেনে চলা সম্ভব এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সমস্যা কমাতে সহায়ক।
তবে গবেষণার ফলাফলের অর্থ এই নয় যে সব ধরনের ওষুধ যেকোনো সময় খাওয়া যাবে। কিছু ওষুধ খাবারের আগে, পরে কিংবা খালি পেটে গ্রহণ করতে হয়। আবার নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে সময় মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন নিয়মিত রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ খাওয়ার সময় পরিবর্তন করা, ডোজ বাদ দেওয়া কিংবা ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। কোনো ডোজ খেতে ভুলে গেলে বা ওষুধ গ্রহণের সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে চিকিৎসক কিংবা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র: ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন ও দ্য ল্যানসেট।