যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপনা ও কিডনি রোগের চিকিৎসা করলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখেছেন প্রবাসী চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা, গবেষণা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নেও অবদান রেখে চলেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিডনি বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক।
কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসজনিত কিডনি জটিলতার চিকিৎসায় প্রায় পাঁচ দশক ধরে কাজ করছেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ। রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কিডনি বিশেষজ্ঞ তৈরিতেও ভূমিকা রাখছেন তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-২৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী জিয়াউদ্দিন আহমেদ ১৯৭৭ সালে স্নাতক সম্পন্ন করে উচ্চতর চিকিৎসাশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি মার্সি ক্যাথলিক মেডিকেল সেন্টার ও মেডিকেল কলেজ অব পেনসিলভানিয়ায় প্রশিক্ষণ নেন। পরে ইন্টারনাল মেডিসিন ও নেফ্রোলজিতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সনদ অর্জন করেন।

বর্তমানে তিনি টেম্পল ইউনিভার্সিটির লুইস কাটজ স্কুল অব মেডিসিনে ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের প্রফেসর এমেরিটাস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সংগঠক হিসেবেও পরিচিত জিয়াউদ্দিন আহমেদ। তিনি ডিএমসি অ্যালামনাই ইউএসএ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার সাবেক সভাপতি। তাঁর উদ্যোগে প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুমুদিনী হাসপাতালে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম অনুদান হিসেবে পাঠানো হয়। এসব সরঞ্জাম দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ।

করোনা মহামারির সময়ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন এই অধ্যাপক। ‘আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই সমাধান’ শীর্ষক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জনসাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা করেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও চিকিৎসা ও শিক্ষার সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসক ও শিক্ষকের পরিবারে বেড়ে ওঠা জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহ ধরে রেখেছেন। দেশের হাসপাতালগুলোকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ‘টপ ডক্টর’ সম্মাননা পেয়েছেন ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ম্যাগাজিন তাঁকে এ স্বীকৃতি দেয়। ফিলাডেলফিয়ার চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ ভোট ও পিয়ার-রিভিউভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ভূমিকার জন্য সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছেও তিনি সমাদৃত।