টুথপেস্ট কেনার সময় শুধু বিজ্ঞাপন, স্বাদ কিংবা আকর্ষণীয় মোড়কের দিকে না তাকিয়ে উপাদানের তালিকা ও ফ্লোরাইডের পরিমাণ দেখে পণ্য নির্বাচন করা ভালো। দাঁত বা মাড়িতে নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা থাকলে নিজের মতো করে টুথপেস্ট পরিবর্তন না করে দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের টুথপেস্ট পাওয়া যায়। কোনোটি নুনযুক্ত, কোনোটি নিমের গুণসমৃদ্ধ, আবার মুখে সতেজ অনুভূতির জন্য রয়েছে মিন্টযুক্ত টুথপেস্ট। ঠান্ডা-গরমে দাঁত শিরশির করার সমস্যা থাকলে ব্যবহার করা হয় সেনসিটিভিটি নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি বিশেষ টুথপেস্ট। আবার দাঁত সাদা করার জন্যও বাজারে রয়েছে নানা ধরনের মাজন।

মুখের নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারের জন্য এত ধরনের টুথপেস্টের মধ্যে কোনটি দাঁতের জন্য উপযোগী, তা বুঝবেন কীভাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথপেস্ট কেনার সময় বিজ্ঞাপনে দেখানো তারকা, আকর্ষণীয় মোড়ক, স্বাদ কিংবা টুথপেস্টের রং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বরং প্যাকেটের গায়ে থাকা উপাদানের তালিকা ও ফ্লোরাইডের পরিমাণ যাচাই করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিজ্ঞাপনের আকর্ষণে প্রভাবিত হয়ে টুথপেস্ট বেছে না নেওয়াই ভালো। আকর্ষণীয় মোড়ক বা চটকদার লেবেল থাকলেই কোনো টুথপেস্ট দাঁত ও মুখের যত্নের জন্য সেরা- এমনটা নয়। অনেক সময় সাধারণ ও সাদামাটা পণ্যই বৈজ্ঞানিক দিক থেকে বেশি নির্ভরযোগ্য হতে পারে।

টুথপেস্ট কেনার আগে এই তিনটি বিষয় দেখুন
১. ফ্লোরাইডের পরিমাণ
দাঁতের এনামেল শক্তিশালী করতে এবং দাঁতের ক্ষয় বা ক্যাভিটি প্রতিরোধে ফ্লোরাইড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব কমাতে এবং খাবার ও চিনি থেকে তৈরি অ্যাসিডের আক্রমণ থেকে দাঁতকে সুরক্ষায় সহায়তা করে।
তাই সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের টুথপেস্ট কেনার সময় এতে প্রায় ১৩৫০ থেকে ১৫০০ পিপিএম ফ্লোরাইড রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।
২. এক্সট্রা হোয়াইটনিং দেখেই কিনবেন না
টুথপেস্টের প্যাকেটে ‘চারকোল’, ‘ডিটক্স’ কিংবা ‘এক্সট্রা হোয়াইটনিং’ লেখা থাকলেই সেটি দাঁতের জন্য বেশি ভালো—এমন ধারণা ঠিক নয়।

দাঁত সাদা করার জন্য কিছু টুথপেস্টে সিলিকা বা ক্যালশিয়াম কার্বোনেটের মতো ঘষে পরিষ্কার করার উপাদান ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত ঘষনকারী উপাদানযুক্ত টুথপেস্ট দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত ব্যবহারে দাঁতের ক্ষয় কিংবা সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে।
তাই শুধু ঝকঝকে সাদা দাঁত পাওয়ার আশায় অতিরিক্ত ঘষনকারী টুথপেস্ট বেছে নেওয়া উচিত নয়।
৩. এসএলএস আছে কি না খেয়াল করুন
সোডিয়াম লরিল সালফেট বা এসএলএস অনেক টুথপেস্টে থাকা একটি ফেনা তৈরিকারী উপাদান। তবে টুথপেস্টে এসএলএস থাকলেই সেটি ক্ষতিকর—এমন ধারণাও সঠিক নয়।
তবে যাদের মুখে বারবার আলসার হয় কিংবা মুখ শুষ্ক থাকার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসএলএস-মুক্ত টুথপেস্ট তুলনামূলক বেশি আরামদায়ক হতে পারে। অন্যদের ক্ষেত্রে টুথপেস্টে এসএলএস থাকা সাধারণত বড় সমস্যা তৈরি করে না।