wcm
Back to home

আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে শিশুরা অসুস্থ হওয়ার কারণ

আবহাওয়া সরাসরি সংক্রমণ ঘটায় না  বরং এই সময়ে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, শ্বাসতন্ত্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সংক্রমণের পরিবেশের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিশুকে ঘরে বন্দি করে রাখার বদলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, পানি পান, ঘরে ভালো বায়ু চলাচল এবং সময়মতো টিকা নিশ্চিত করুন।

ডেস্ক রিপোর্ট

August 27, 2026

আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে শিশুরা অসুস্থ হওয়ার কারণ
ছবি: সংগৃহীত

আবহাওয়া একটু বদলালেই কি আপনার শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে? এর পেছনে শুধু ঠান্ডা আবহাওয়া দায়ী নয়। শিশুদের কম রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, বন্ধ ঘরে বেশি সময় কাটানো এবং ভাইরাসের সংক্রমণও এর বড় কারণ। আবার সবসময় এসব উপসর্গ সংক্রমণের কারণে হয় না কখনো এটি হতে পারে মৌসুমি অ্যালার্জিও। ঋতু পরিবর্তনের সময় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ওঠানামা শিশুদের শরীরে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আবহাওয়া পরিবর্তন নিজে থেকে কোনো ভাইরাস তৈরি করে না। শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় তারা সংক্রমণের প্রতি তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল। হিন্দুস্তান টাইমসে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অঙ্কুর চাওলা জানিয়েছেন, তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন নাক ও গলার স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

আবহাওয়া বদলালে শিশুরা কেন বেশি অসুস্থ হয়

নাক ও গলার ভেতরে থাকা মিউকাস এবং ক্ষুদ্র চুলের মতো গঠন সিলিয়া শ্বাসের সঙ্গে ঢুকে পড়া জীবাণু ও ক্ষতিকর কণাকে আটকে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন, শুষ্ক বা ঠান্ডা বাতাস এই প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার

রোগীর সেবায় নবীজি (সা.) এর আত্মনিয়োগ
আরও পড়ুন রোগীর সেবায় নবীজি (সা.) এর আত্মনিয়োগ

কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণু শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটানোর সুযোগ পেতে পারে। এর সঙ্গে শিশুদের তুলনামূলক অপরিণত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও যুক্ত হয়। ফলে বড়দের তুলনায় তারা সহজেই সর্দি-কাশি বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে।

ঘরে থাকলেও কি শিশু অসুস্থ হয় 

শিশুকে অসুস্থতা থেকে বাঁচাতে অনেক বাবা-মা আবহাওয়া খারাপ হলে জানালা-দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতরেই রাখেন। কিন্তু অতিরিক্ত সময় বন্ধ ঘরে থাকাও কখনো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্কুল, ডে-কেয়ার বা বাড়িতে অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় কাছাকাছি থাকলে একজনের কাছ থেকে অন্যজনের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ বাড়ে।  ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) এবং সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের ক্ষুদ্র কণা ও হাতের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তাই শুধু শিশুকে ঘরে রাখাই যথেষ্ট নয়। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও গুরুত্বপূর্ণ।

এটা সংক্রমণ নাকি মৌসুমি অ্যালার্জি?

তবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শিশুর কাশি, হাঁচি বা নাক বন্ধ হলেই সেটিকে সংক্রমণ বলা যায় না। পরাগরেণু, ধুলাবালি বা বাতাসের আর্দ্রতার পরিবর্তনের কারণেও এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা নাকের অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। শিশু বিশেষজ্ঞ বলেন, বারবার হাঁচি, নাক বন্ধ থাকা, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং স্বচ্ছ সর্দি—এসব

পেট ফাঁপা-ওজন কমাতে নিয়মিত যেই চা পান করবেন
আরও পড়ুন পেট ফাঁপা-ওজন কমাতে নিয়মিত যেই চা পান করবেন

অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণ। অন্যদিকে, জ্বর এবং অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ক্লান্তি থাকলে তা সংক্রমণের সম্ভাবনাকেই বেশি নির্দেশ করে।

শিশুকে সুস্থ রাখতে বাবা-মায়ের করণীয়

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শিশুর দৈনন্দিন রুটিন ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং বয়স অনুযায়ী শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা শিশুর সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি

*নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করান।

*ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।

*অসুস্থ ব্যক্তির খুব কাছাকাছি শিশুকে না রাখাই ভালো।

*শিশুকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দিন।

*শিশুর বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকাগুলো সময়মতো দিন।

*ঘুমের সময়সূচি নিয়মিত রাখুন।

যেসব লক্ষণ থেকলেই বিপদ: সাধারণ সর্দি-কাশি বেশিরভাগ সময় গুরুতর নয়। তবে কিছু লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়। এই

রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙার কারণ ও প্রতিকার
আরও পড়ুন রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙার কারণ ও প্রতিকার

৬টি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে শিশুকে নিতে হবে। এগুলো হলো:  

*শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

*বারবার বা দীর্ঘসময় বমি হওয়া

* পানিশূন্যতার লক্ষণ

*ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া

*অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত ক্লান্তি

*ভালো হওয়ার পর আবার উপসর্গ বেড়ে যাওয়া

ঋতু পরিবর্তন হলেই শিশুকে সবসময় অসুস্থ হয়ে পড়তে হবে এমন নয়। আবহাওয়া সরাসরি সংক্রমণ ঘটায় না  বরং এই সময়ে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, শ্বাসতন্ত্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সংক্রমণের পরিবেশের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিশুকে ঘরে বন্দি করে রাখার বদলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, পানি পান, ঘরে ভালো বায়ু চলাচল এবং সময়মতো টিকা নিশ্চিত করুন। আর শিশুর স্বাভাবিক সর্দি-কাশি যদি খুব বেড়ে যায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। 

 

Share
wcm

আরও জানুন

যে কারণে বড় কোমরের মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি
স্বাস্থ্য

যে কারণে বড় কোমরের মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাদের কোমরের মাপ বেশি তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি; এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 25 Aug
কতো মাস বয়সে শিশুকে ডিম দেওয়া নিরাপদ?
স্বাস্থ্য

কতো মাস বয়সে শিশুকে ডিম দেওয়া নিরাপদ?

শিশুর বয়স প্রায় ৬ মাস হলে এবং সে বাড়তি খাবারের জন্য প্রস্তুত থাকলে ডিম দেওয়া শুরু করা যেতে পারে। ডিম দেওয়ার জন্য ৮ বা ৯ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

ডেস্ক রিপোর্ট 25 Aug
রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙার কারণ ও প্রতিকার
স্বাস্থ্য

রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙার কারণ ও প্রতিকার

নিয়মিত একাধিকবার ঘুম ভেঙে গেলে এবং এতে ঘুম বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা কিংবা জ্বরের মতো উপসর্গ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 25 Aug
চুল পড়ার সমস্যায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সতর্ক হোন
স্বাস্থ্য

চুল পড়ার সমস্যায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সতর্ক হোন

কোনো একটি খাবার খেলেই চুল পড়া শুরু হয়ে যায়, এমন সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ নেই। চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, কিছু শারীরিক সমস্যা, মানসিক চাপসহ নানা কারণ থাকতে পারে। খাবার এসব সমস্যার কিছু ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 25 Aug