Back to home

গবেষণা তথ্য

শৈশবে চিনি বেশি খেলে বাড়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় এবং জন্মের প্রথম দুই বছরে চিনি গ্রহণের সঙ্গে বয়স বাড়ার পর ডিমেনশিয়া তথা স্মৃতিভ্রংশ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকতে পারে

ড

ডেস্ক রিপোর্ট

August 16, 2026

10 min
শৈশবে চিনি বেশি খেলে বাড়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি
ফাইল ফটো

সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় এবং জন্মের প্রথম দুই বছরে চিনি গ্রহণের সঙ্গে বয়স বাড়ার পর ডিমেনশিয়া তথা স্মৃতিভ্রংশ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ‘নিউরোলোজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গর্ভকালীন সময় থেকে জীবনের প্রথম এক বছর যাদের চিনি গ্রহণের পরিমাণ কম ছিল, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ২১ শতাংশ কম দেখা গেছে। এই কম চিনি খাওয়ার অভ্যাস জীবনের প্রথম দুই বছর বজায় রাখা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

পাশাপাশি শৈশবে কম চিনি গ্রহণ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া প্রকাশ পাওয়ার গড় সময়ও অন্যদের চেয়ে প্রায় আড়াই বছর পিছিয়ে গেছে। এতে গবেষকরা ধারণা করছেন যে, জীবনের শুরুতে খাদ্যাভ্যাসে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কোন গ্রুপের রক্তে কোন রোগের ঝুঁকি বেশি
আরও পড়ুন কোন গ্রুপের রক্তে কোন রোগের ঝুঁকি বেশি

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক জিয়াজেন ঝেং-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও তার পর যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৪ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। মূলত ১৯৫৩ সালে যুক্তরাজ্যে সরকারের চিনি বরাদ্দ বা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার আগের ও পরের সময়কালের ওপর ভিত্তি করেই এই বিশ্লেষণটি চালানো হয়েছে।

তবে এই গবেষণার ফলাফলের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হতে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টাফটস ইউনিভার্সিটির ‘ফুড অ্যান্ড মেডিসিন ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক দারিউশ মোজাফফারিয়ান জানান, এই গবেষণাটি কেবল একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়, এটি সরাসরি চিনি কমানোর সুনির্দিষ্ট ফলাফল হিসেবে প্রমাণিত নয়। রেশনিং ব্যবস্থা থাকা ও না থাকার ওপর ভিত্তি করে তৎকালীন মানুষের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, ক্যালরি গ্রহণ ও পুষ্টির অন্যান্য উপাদানেও অনেক ফারাক ছিল, যার ফলে কেবল চিনির প্রভাব এককভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।

প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে প্রক্রিয়াজাত খাবার
আরও পড়ুন প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে প্রক্রিয়াজাত খাবার

এ অবস্থায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গর্ভবতী নারী ও শিশুদের খাবারের ক্ষেত্রে কেবল চিনি কমানোর দিকে নজর না দিয়ে সার্বিক সুষম খাদ্যাভ্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রক্রিয়াজাত অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার পরিহার করে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বাদাম ও তাজা মাছের মতো পুষ্টিকর খাদ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গবেষকরা নিজেরাও স্বীকার করেছেন যে ব্যক্তির নিজস্ব চিনি পরিমাপ না করে ঐতিহাসিক রেশনিং ডেটার ওপর নির্ভর করায় অন্যান্য সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত কারণও এই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, যা প্রমাণের জন্য ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

Share

আরও জানুন

বিদেশি দামি ফলের পরিবর্তে বহুগুণ পুষ্টি পাবেন যে ফলে
স্বাস্থ্য

বিদেশি দামি ফলের পরিবর্তে বহুগুণ পুষ্টি পাবেন যে ফলে

স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার মানেই যে বিদেশি বা দামি হতে হবে, এমন নয়। আমাদের হাতের কাছে থাকা পরিচিত পেয়ারা হতে পারে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম সেরা পুষ্টিকর বিকল্প।

ডেস্ক রিপোর্ট 26 Sep
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও পেট ফাঁপার কারণ
স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও পেট ফাঁপার কারণ

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়া প্রয়োজন, যা ধাপে ধাপে পূরণ করা ভালো।

ডেস্ক রিপোর্ট 26 Sep
ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে যেসব অভ্যাসে
স্বাস্থ্য

ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে যেসব অভ্যাসে

ধূমপান না করলেও ফুসফুস পুরোপুরি নিরাপদ থাকে না। তামাকজাত পণ্যের আসক্তি না থাকলেও প্রতিদিনের কিছু অসতর্কতার কারণে ফুসফুস ক্ষতিকর ধোঁয়া ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতে পারে। দীর্ঘদিন এই ধরনের পরিবেশের মধ্যে থাকলে ফুসফুসের নানা জটিলতার পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

ডেস্ক রিপোর্ট 26 Sep
সুস্থ থাকতে কমান অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার, মানতে হবে যেসব অভ্যাস
স্বাস্থ্য

সুস্থ থাকতে কমান অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার, মানতে হবে যেসব অভ্যাস

নতুন এক গবেষণায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের বেশি গ্রহণের সঙ্গে হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই খাবার বাছাইয়ের সময় শুধু স্বাদ বা সুবিধার কথা না ভেবে খাবারটি কতটা প্রক্রিয়াজাত, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

ডেস্ক রিপোর্ট 24 Sep