Back to home

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও পেট ফাঁপার কারণ

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়া প্রয়োজন, যা ধাপে ধাপে পূরণ করা ভালো।

ড

ডেস্ক রিপোর্ট

September 26, 2026

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও পেট ফাঁপার কারণ
ফাইল ফটো

এক বাটি অঙ্কুরিত শস্য, সালাদ বা ওটস খাওয়াকে সাধারণত স্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই খাবারগুলো ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে যা হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। তবুও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এগুলো খাওয়ার পর পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। এর মানে এই নয় যে খাবারগুলো অস্বাস্থ্যকর; বরং এটি নির্ভর করে আপনি কতটা ফাইবার খাচ্ছেন, কত দ্রুত খাচ্ছেন এবং আপনার পরিপাকতন্ত্র কীভাবে তা হজম করছে তার ওপর।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও পেট ফাঁপার প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • হঠাৎ ফাইবার গ্রহণ বৃদ্ধি: অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ফাইবার গুরুত্বপূর্ণ হলেও হঠাৎ এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ফাইবার গাঁজিয়ে (Ferment) তোলে। এই প্রক্রিয়ায় গ্যাস তৈরি হয়, যা পেট ফাঁপার মূল কারণ। কম ফাইবারযুক্ত খাবার থেকে হঠাৎ ওটস, শাকসবজি বা ডাল জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া শুরু করলে পরিপাকতন্ত্র মানিয়ে নিতে সময় নেয়।

    পেট ভরে খাওয়ার কিছুক্ষণ পরও ক্ষুধা লাগে কেন?
    আরও পড়ুন পেট ভরে খাওয়ার কিছুক্ষণ পরও ক্ষুধা লাগে কেন?
  • অঙ্কুরিত শস্য ও কাঁচা সালাদ: অঙ্কুরিত শস্যে গাঁজনযোগ্য কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার থাকে। অনেকের জন্য কাঁচা অঙ্কুরিত শস্য হজম করা কঠিন। একইভাবে, কাঁচা সালাদে প্রচুর ফাইবার থাকে যা রান্না করা সবজির চেয়ে হজম হতে বেশি সময় নেয়। বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, ফুলকপি, ব্রকলি বা শিম সংবেদনশীল মানুষের পেটে সহজে গ্যাস তৈরি করে।

  • ওটসের পরিমাণ: ওটস দ্রবণীয় ফাইবারের (বিটা-গ্লুকান) ভালো উৎস হলেও হঠাৎ বেশি খেলে তা পরিপাকনালীতে পানি ধরে রাখে এবং খাদ্যবস্তুর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যারা বেশি ফাইবারে অভ্যস্ত নন, তাদের সাময়িকভাবে পেটে অস্বস্তি হতে পারে।

  • খাওয়ার ভুল অভ্যাস: দ্রুত খাবার খাওয়া, ভালো করে না চিবানো, খাওয়ার সময় কথা বলা বা ফিজি ড্রিঙ্কস পানের কারণে পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত বাতাস ঢুকে পেট ফাঁপতে পারে।

করণীয় ও সমাধান:

ভেপিং যেভাবে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে
আরও পড়ুন ভেপিং যেভাবে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে

পেট ফাঁপার সমস্যা এড়াতে এই পুষ্টিকর খাবারগুলো খাওয়া বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। প্রতিদিন একসঙ্গে একাধিক উচ্চ-ফাইবারযুক্ত খাবার যোগ না করে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ানো উচিত। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়া প্রয়োজন, যা ধাপে ধাপে পূরণ করা ভালো। অঙ্কুরিত শস্য ও সালাদ কাঁচা না খেয়ে হালকা রান্না বা সেদ্ধ করে খেলে তা সহজে হজম হয়। এ ছাড়া ফাইবার গ্রহণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সবসময় শান্ত হয়ে চিবিয়ে খাবার খাওয়া উচিত। তবে সমস্যাটি যদি 'ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম' (IBS) বা তীব্র হজমজনিত সংবেদনশীলতার কারণে হয়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।

Share

আরও জানুন

ব্রেকিং অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত অ্যানেস্থেশিয়া যেভাবে কাজ করে
স্বাস্থ্য

অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত অ্যানেস্থেশিয়া যেভাবে কাজ করে

বিজ্ঞানীরা অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে চেতনাকে নিয়ন্ত্রিতভাবে বন্ধ ও ফিরিয়ে আনার সুযোগ পাচ্ছেন, যা চেতনা বোঝার ক্ষেত্রে বড় একটি গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 24 Sep
মেজাজ সারাক্ষণ খিটখিটে থাকলে  মেনে চলবেন যেসব উপায়
স্বাস্থ্য

মেজাজ সারাক্ষণ খিটখিটে থাকলে মেনে চলবেন যেসব উপায়

আপনিও কি লক্ষ্য করেছেন যে আজকাল আপনার প্রায়ই মেজাজ খারাপ থাকছে? যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক থেরাপিস্ট জেফ্রি মেল্টজারের বাতলে দেওয়া চারটি সহজ উপায় মেনে দেখতে পারেন, যা নিমিষেই আপনার মন ভালো করে দিতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 24 Sep
ইচ্ছামতো ওষুধ-সাপ্লিমেন্ট খেয়ে অজান্তেই লিভার নষ্ট করছে না তো?
স্বাস্থ্য

ইচ্ছামতো ওষুধ-সাপ্লিমেন্ট খেয়ে অজান্তেই লিভার নষ্ট করছে না তো?

শুধু অ্যালকোহল নয়, দৈনন্দিন জীবনের বেশ কিছু সাধারণ ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টও লিভারকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আর সবচেয়ে বড় বিপদের জায়গাটি হলো, লিভারে কোনো স্নায়ু নেই যা সরাসরি ব্যথার সংকেত দিতে পারে। ফলে ক্ষতি শুরু হলেও প্রথম দিকে শরীর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না।

ডেস্ক রিপোর্ট 23 Sep
ভুলে যাওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধে করণীয়
স্বাস্থ্য

ভুলে যাওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধে করণীয়

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগের ঘাটতি শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়; এটি শিশু ও তরুণদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 23 Sep