আজকাল অনেকেরই আড্ডা বা সামাজিক জীবনের পরিচিত এক অংশ হয়ে উঠেছে ভেপিং ও হুকা। প্রচলিত সিগারেটের চেয়ে এগুলোকে কম ক্ষতিকর মনে করা হলেও, এর আকর্ষণীয় ব্যবহারের আড়ালে শরীরের ভেতর কী ধরনের বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে কী ক্ষতি হচ্ছে—তা আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না। ভারতের প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ নামামি আগারওয়াল ভেপিং ও হুকার নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরেছেন এবং কেন এগুলোকে নিরাপদ ভাবার কোনো কারণ নেই, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
নিচে এর ক্ষতিকর দিকগুলো সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো:
১. ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি
ভেপিং ও হুকার মাধ্যমে নিয়মিত বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা সরাসরি ফুসফুসের গভীরে চলে যায়। এর ফলে ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। অনেকে ভাবেন এগুলো সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ, কিন্তু আদতে এগুলো শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ ডেকে আনে।

২. ক্ষতিকর রাসায়নিকের ভয়ংকর মিশ্রণ
এই অভ্যাসগুলোর কারণে আমাদের শরীর ক্ষতিকর রাসায়নিকের এক বিপজ্জনক মিশ্রণের মুখোমুখি হয়। ভেপিংয়ের সময় রাসায়নিক দ্রাবক উত্তপ্ত হয়ে বাষ্পে পরিণত হয়, আর হুকায় তামাকের সঙ্গে কয়লা পুড়েই ধোঁয়া উৎপন্ন হয়।
৩. পানির ফিল্টার নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে, ভেপ বা হুকার ধোঁয়া পানির মধ্য দিয়ে ফিল্টার হয়ে আসায় তা কিছুটা নিরাপদ বা পরিশুদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আসল সত্য হলো, হুকার পানি বা ভেপের যন্ত্রাংশ কোনোভাবেই নিকোটিন পুরোপুরি ফিল্টার করতে পারে না। ফলে শরীরে অতিরিক্ত নিকোটিন প্রবেশ করে, যা হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ায় এবং স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
৪. আশেপাশের মানুষের জন্য পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি
আপনি যখন ভেপ করেন, তখন শুধু আপনার নিজের ক্ষতি হয় না; আশেপাশের মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। এই ধোঁয়া থেকে সরাসরি ঘনীভূত বিষাক্ত পদার্থ ও ভারী ধাতু বাতাসে মিশে যায়, যা পাশে থাকা অ-ধূমপায়ী মানুষদের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।

৫. বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা
ভেপিং ডিভাইসে শক্তিশালী লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও অনুন্নত ধাতব কেসিং থাকে, যা থেকে অনেক সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ, ত্বকে মারাত্মক পোড়া দাগ বা রাসায়নিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, হুকায় যান্ত্রিক বিস্ফোরণ না থাকলেও খোলা অবস্থায় জ্বলন্ত কয়লা ব্যবহারের কারণে বড় ধরনের আগুন লাগা, কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া এবং শরীর পুড়ে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকে।