দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ‘আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড’ বা মাত্রাতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের আধিক্য স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার এই প্রবণতা পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির ‘চার্লস ই. শমিট কলেজ অব মেডিসিন’-এর গবেষকদের এই স্টাডিটি সম্প্রতি ‘দ্য আমেরিকান জার্নাল অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভে’-তে অংশ নেওয়া ১৭,০২৪ জন মার্কিন পুরুষের খাদ্যভ্যাস বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গবেষকরা।
খাদ্যতালিকায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের হারের ওপর ভিত্তি করে অংশগ্রহণকারীদের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী চারটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। ফলাফলে দেখা গেছে, কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া পুরুষদের তুলনায় যারা বেশি মাত্রায় এসব খাবার খান, তাদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি ২৪ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি।

দৈনিক ক্যালরির ২০ শতাংশের বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণকারী উচ্চ-ব্যবহারকারী তিনটি দলের ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি সার্বিকভাবে ২৯ শতাংশ বেশি দেখা গেছে।
গবেষকদের মতে, এসব খাবার বিপাকক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়, শরীরে প্রদাহ তৈরি করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায় এবং অন্ত্রের অনুজীবের ক্ষতি করে ক্যানসারের পথ তৈরি করে।
গবেষকরা জানান, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত পণ্য, স্ন্যাকস এবং প্রসেসড মিটের মতো খাবারগুলোতে অতিরিক্ত পরিশোধিত চর্বি, চিনি, স্টার্চ ও লবণ থাকে যা স্বাদ বাড়ালেও পুষ্টিগুণ ধ্বংস করে।
গবেষণাপত্রের অন্যতম সহ-লেখক ড. টিমোথি ডে ভার ডাই মন্তব্য করেছেন, ‘প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার কমানো একটি জটিল জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। কারণ এসব পণ্য বাজারে অত্যন্ত সহজলভ্য। চিকিৎসকদের বুঝতে হবে যে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনা বা সংগ্রহ করার পেছনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাধা রয়েছে।’
গবেষকরা বর্তমান খাদ্য শিল্পের এই অবস্থাকে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের তামাক শিল্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তারা জানান, তামাকের ক্ষতিকর দিক প্রকাশ্যে আসার পরও নীতিগত পরিবর্তন আসতে কয়েক দশক লেগেছিল। আল্ট্রা-প্রসেসড ফুডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দীর্ঘ আইনি ও নীতিগত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুসের ক্যানসারের পরেই প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। তাই গবেষক ও চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন নয়, বরং পুষ্টিকর ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে সবার কাছে সহজলভ্য করতে সরকারি নীতি নির্ধারণ জরুরি।
পাশাপাশি প্রতিটি রোগীর স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার বিষয়ে চিকিৎসকদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।