পেটব্যথা হলেই অনেকে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা মনে করে নিজে থেকেই অ্যান্টাসিড কিংবা ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু বারবার পেটে অস্বস্তি হওয়া সবসময় সাধারণ গ্যাস বা বদহজমের কারণে নাও হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সমস্যা চলতে থাকলে এর পেছনে গুরুতর কোনো পরিপাকতন্ত্রের রোগ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
চিকিৎসকরা বলেন, মাঝেমধ্যে অ্যাসিডিটি বা বদহজম হওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। এতে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে সমস্যা যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বারবার ফিরে আসে কিংবা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অ্যান্টাসিড খাওয়ার পরও যদি সাময়িক স্বস্তি না মেলে কিংবা কিছুদিন পরপর একই সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। কারণ এ ধরনের উপসর্গ গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, পিত্তথলি বা অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা এবং আরও বিভিন্ন পরিপাকতন্ত্রের রোগের লক্ষণ হতে পারে।

যেসব উপসর্গে সতর্ক হবেন
পেপটিক আলসার: পেটের ওপরের অংশে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় খাবারের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকে।
গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বা জিইআরডি: বুকজ্বালা, মুখে টক বা অ্যাসিডের পানি উঠে আসা কিংবা বুকে ব্যথা হতে পারে।
পিত্তথলিতে পাথর: বিশেষ করে বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর পেটের ওপরের অংশে ব্যথা হতে পারে।
অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা: পেটের ওপরের অংশে তীব্র ব্যথা হতে পারে, যা পিঠের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গ্যাস্ট্রাইটিস বা এইচ. পাইলোরি সংক্রমণ: বারবার পেটের ওপরের অংশে ব্যথা, বমিভাব ও পেট ফাঁপা দেখা দিতে পারে। তবে এসব রোগের উপসর্গ অনেক সময় একই রকম হতে পারে। তাই সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসাউন্ড, এন্ডোস্কোপি বা প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা লাগতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন
অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজন কমে যাওয়া, ঘন ঘন বা বারবার বমি, খাবার গিলতে সমস্যা বা ব্যথা, রক্তবমি, কালো পায়খানা বা পায়খানায় রক্ত, তীব্র ও ক্রমশ বাড়তে থাকা পেটব্যথা, জ্বর ও জন্ডিস, অকারণে রক্তশূন্যতা এবং পায়খানার স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পেট ভালো রাখতে যা করবেন
পেট ও পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে শাকসবজি, ফল, ডাল ও পূর্ণ শস্যজাতীয় আঁশসমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ করে এনএসএআইডি ধরনের ওষুধ অপ্রয়োজনে না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ। কোন খাবার খেলে আপনার পেটে সমস্যা হয়, তা চিহ্নিত করে সেটি কমানো যেতে পারে। তবে প্রয়োজন ছাড়া খাদ্যতালিকা থেকে বড় কোনো খাদ্যগোষ্ঠী পুরোপুরি বাদ দেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস