
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমানে অনেকের দুশ্চিন্তার অন্যতম প্রধাণ কারণ চুল পড়ার সমস্যা। বয়স্করা যেমন তেমন যুবকদের মধ্যে এই দুশ্চিন্তা অনেক বেশি। বিশেষ করে যারা বিয়ে করার কথা কথা ভাবছেন, তাদের মধ্যে এই চিন্তা একটু বেশি। পরিবেশ দূষণ, মানসিক চাপ, অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, নানা কারণে চুল ঝরতে পারে।
চুল পড়ার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে দামি শ্যাম্পু, সিরাম বা তেল ব্যবহার করেন। অনেকে নতুন চুল গঁজানোর আশায় পেয়াজ রসুন থেঁতো করে মাথায় মাখেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর চুলের ভিত্তি তৈরি হয় শরীরের ভেতর থেকেই।
সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, দুটি সহজলভ্য বীজ খাদ্যতালিকায় রাখলে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যেতে পারে। তবে এগুলো কোনো জাদুকরি সমাধান নয়। নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খেলে ধীরে ধীরে এর উপকার মিলতে পারে।
কুমড়ার বীজ
কুমড়ার বীজে রয়েছে জিঙ্ক, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। এসব পুষ্টি উপাদান চুলের গোড়া শক্ত রাখতে এবং নতুন চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কুমড়ার বীজের তেলে থাকা প্রাকৃতিক যৌগ পুরুষদের নির্দিষ্ট ধরনের চুল পড়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
খাওয়ার নিয়ম
সকালে ওটস বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে কিংবা সালাদের সঙ্গে খাওয়া যায়। আবার হালকা ভেজে স্বাস্থ্যকর নাশতা হিসেবে কিংবা স্মুদি বা ঘরে তৈরি গ্র্যানোলার সঙ্গেও খাওয়া যায়।
তিসির বীজ
তিসির বীজে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আঁশ, প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান মাথার ত্বকের পুষ্টি জোগাতে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিসির বীজ পুরো না খেয়ে গুঁড়া করে খেলে শরীর এর পুষ্টি আরও ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।
খাওয়ার নিয়ম
খাওয়ার জন্য গুঁড়া করে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে, ওটস বা ডালিয়ার ওপর ছড়িয়ে, স্মুদিতে মিশিয়ে অথবা আটার সঙ্গে মিশিয়ে রুটি তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এর উপকারিতা ধীরে ধীরে বোঝা যায়।
চুলের বৃদ্ধি একটি ধীর প্রক্রিয়া। সাধারণভাবে প্রতি মাসে চুল প্রায় এক সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাই এক বা দুই সপ্তাহে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার সুফল পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
চুলের সুস্থতার জন্য শুধু কুমড়া বা তিসির বীজ খাওয়াই যথেষ্ট নয়। শরীরের আরও অনেক পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। যেমন - পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, জিঙ্ক ও স্বাস্থ্যকর চর্বি। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পানি পান করাও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চুল ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস নিয়মিত অনুসরণ করা জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন, কারণ চুলের পুষ্টি মূলত শরীরের ভেতর থেকেই আসে। অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং, যেমন হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লার ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে দিন, এতে চুলের ক্ষতি কম হবে। এছাড়া ভেজা চুল শক্ত করে বেঁধে রাখবেন না, কারণ এতে চুল ভেঙে যাওয়া ও পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাও চুল ও মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কুমড়ার বীজ ও তিসির বীজ চুলের জন্য উপকারী বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা মিলতে পারে। তবে এগুলো কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক চুলের যত্নের সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য সবচেয়ে কার্যকর।
চুল হঠাৎ অতিরিক্ত পড়তে শুরু করলে বা মাথায় টাকের মতো দাগ দেখা দিলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন