Ad
Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬


পাকিস্তানে দ্রুত ছড়াচ্ছে এইচআইভি, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু

Main Image

ছবি: সংগৃহীত


পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচির সরকারি একটি হাসপাতালে সম্প্রতি অন্তত ১৩০ জন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু বলে জানা গেছে। প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

 

সিন্ধ প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ ঘানি জানান, সিন্ধ এলাকায় ১০ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া, করাচির লান্ধি এলাকায় এর আরেকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিচালিত পৃথক স্ক্রিনিংয়ে আরও ১০ জনের শরীরে এইচআইভি ধরা পড়েছে।

 

জানা যায়, গত ১৪ জুলাই দুটি পৃথক তদন্তে হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুতর ব্যর্থতা পাওয়া গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে— মাত্র একবার ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহার করায় এ সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণের জন্য শুধু সিরিঞ্জ নয়, হাসপাতালের সামগ্রিক সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতাও দায়ী। তদন্তে নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণে ব্যর্থতা, সুরক্ষাসামগ্রীর অপর্যাপ্ত ব্যবহার এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

 

গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত যৌথ প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউএনএইডস জানায়, পাকিস্তান বর্তমানে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া দেশগুলোর একটি। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে বছরে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ ছিল প্রায় ১৬ হাজার। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৪৮ হাজারে পৌঁছেছে, যা ১৫ বছরে প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি। বর্তমানে পাকিস্তানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। এদের প্রায় ৮০ শতাংশই জানেন না যে তারা আক্রান্ত।

 

আক্রান্ত শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য সিন্ধ সরকার ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ৭২ লাখ মার্কিন ডলার) সমমূল্যের একটি তহবিল গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্তদের জন্য একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

 

করাচির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ ফয়সাল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, শুধু সিরিঞ্জ নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। 

 

তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রায় ৬০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। হাসপাতালের পাশাপাশি অসংখ্য ক্লিনিক, ডিসপেনসারি ও ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকায় এগুলো কার্যকরভাবে তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন। স্বাস্থ্য কমিশনগুলোর প্রয়োজনীয় জনবলও নেই, ফলে নিয়মিত পরিদর্শন সম্ভব হয় না।

 

তার মতে, পাকিস্তানের স্বাস্থ্যসেবায় অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন ব্যবহারের একটি দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি রয়েছে। অনেক রোগী মনে করেন, ইনজেকশন নিলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়। একই ধারণা অনেক স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যেও রয়েছে।

 

আরও পড়ুন