
ছবি: সংগৃহীত
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার একটি বিশেষ দেশকে একচেটিয়া বাণিজ্যের সুবিধা দিতে এবং বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে খুশি করতে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ।
চিকিৎসা খাতের বেহাল দশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করে অন্য কারো হাতে তুলে দিয়েছিল এবং একটি বিশেষ দেশকে একচেটিয়া রোগী সরবরাহ ও চিকিৎসা বাণিজ্যের সুবিধা দেওয়ার জন্য আমাদের দেশের বড় বড় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল।
বাজেট উপস্থাপনের দিন বিরোধীদলীয় নেতার মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছিলেন আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা এক শত ভাগ অসুস্থ। কিন্তু আসলে এটি ১০১ ভাগ অসুস্থ। এই মৃতপ্রায় চিকিৎসা খাতকে পুনরায় সচল করতে চলতি বাজেটে ১.২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হলেও আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রধামন্ত্রী জানান, রোগ প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৫টি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট ৫টি আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে নীতি রয়েছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকার অন্য কারো এজেন্ডা ও তাবেদারি বাস্তবায়নে মনেপ্রাণে সেই নীতিই এ দেশে প্রয়োগ করেছিল।
বর্তমান সরকার জাতীয়তাবিরোধী ধ্বংসাত্মক নীতির সম্পূর্ণ বিরোধী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চরম ক্ষতিকর নীতিটি করা হয়েছিল অন্য কাউকে খুশি করার জন্য, বিশেষ কোনো গোষ্ঠী বা কোনো একটি বিশেষ দেশকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকার ব্যবসা ও একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার জন্য। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ও আধুনিক মানবিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে এবং বিতর্কিত সিলেবাসগুলোকে সিলেবাস থেকে ধীরে ধীরে পুরোপুরি সরিয়ে আনতে সরকার কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে শিক্ষার উপকরণ নিশ্চিত করা এবং যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলবেন, সেই শিক্ষকদের যুগোপযোগী সঠিক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা ও উপকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার বাজেটে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
এসআরএস/ডিটিভি
আরও পড়ুন