
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও অ্যান্টি ভেনম মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বন্যা ও সংক্রামক ব্যাধি পরিস্থিতি এবং জরুরি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি নিয়ে সমন্বিত প্রশ্নোত্তর ও তথ্যপত্র প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ঝুঁকি এড়াতে এলাকাগুলোতেও আগাম স্বাস্থ্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও সরবরাহ দপ্তরে (সিএমএসডি) এক হাজার ভায়াল এবং মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার ভায়ালসহ মোট প্রায় ২২ হাজার ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রয়েছে। এছাড়া, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল সরবরাহ করা হবে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন, প্রায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ব্যাগ কলেরা স্যালাইন এবং প্রায় ৩৬ লাখ ১৯ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি সিএমএসডিতে প্রায় ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ নরমাল স্যালাইনও সংরক্ষিত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বন্যাদুর্গত এলাকায় মেডিকেল টিমগুলো প্রাথমিক চিকিৎসা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা, ওষুধ ও ওরস্যালাইন বিতরণ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করছে। পাশাপাশি সংক্রামক রোগের নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
বন্যায় গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অধিদপ্তর আরও জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১০ জুলাই মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সাতটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত গুলো হলো—ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফোকাল পারসন নিয়োগ, মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুদ নিশ্চিতকরণ, গর্ভবতী মা ও শিশুদের বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
এসআরএস/ডিটিভি
আরও পড়ুন