
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) শুধু মেডিকেল কলেজ নয়, এটি দেশের আন্দোলন, সংগ্রাম ও ইতিহাসের সাক্ষী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দেশ-বিদেশের সেরা চিকিৎসকই তৈরি করেনি বরং এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধাও তৈরি হয়েছেন যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবন ও স্বার্থ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছরপূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে রাজধানীর মানুষের ‘সার্বক্ষণিক নির্ভরতার জায়গা’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষ ও করিডোরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আনন্দ-বেদনার গল্প রচিত হয়। এখানে যেমন অনেক জীবনের অবসান ঘটে, তেমনি অসংখ্য নতুন জীবনেরও সূচনা হয়। স্টেথোস্কোপের এক প্রান্তে একজন চিকিৎসকের কান থাকে, অন্য প্রান্তে স্পন্দিত হয় একটি মানুষের জীবন। চিকিৎসক ও রোগীকে ঘিরে আবর্তিত হয় একটি পরিবারের অগাধ বিশ্বাস।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের মনোজগতে চিকিৎসকের অবস্থান সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে। চিকিৎসরাই প্রকৃত অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। রোগে-শোকে কাতর মানুষের পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন চিকিৎসকেরা। একজন চিকিৎসকের পরামর্শ ও আন্তরিক ব্যবহারও রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকর হয়ে ওঠে। তাই পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।
মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে মেডিকেল বর্জ্যের বিজ্ঞানসম্মত অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সবাইকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ এবং হাসপাতালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি। আজকের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ডিএমসি-ডে ২০২৬ এবং ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে স্মারক বৃক্ষরোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এসআরএস/ডিটিভি
আরও পড়ুন