
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক আলোচনা সভায় কথা বলেন ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার চেয়ে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল। তিনি জানান, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, বাসাবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ডেঙ্গু এবং হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল জানান, বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রতিরোধমূলক ধারণাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। লক্ষ্য হলো—রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া, অর্থাৎ ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া।
তিনি বলেন, সামনে ডেঙ্গুর মৌসুমকে সামনে রেখে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গুও এমন একটি রোগ, যা সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ কাজে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর সংক্রমণও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ডা. শাকিল জানান, এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করে। ডিম থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন মশা জন্ম নেয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর ওই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, এডিস মশা দিনের বেলায় সক্রিয় থাকায় শিশু, শিক্ষার্থী এবং দিনের বেলায় বাসাবাড়িতে অবস্থান করা বয়স্ক ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই এসব শ্রেণির মানুষের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
তিনি আরো জানান, এডিস মশা যেকোনো বদ্ধ স্থানে জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। বাসাবাড়ির ড্রেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) পানি, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে ডাবের খোসা, আইসক্রিমের কাপসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে, যাতে সেখানে পানি জমে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ না তৈরি হয়। তাই অন্তত তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পাত্র পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দিলে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অসচেতনভাবে যত্রতত্র প্লাস্টিক, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের ভূমিকায় গুরুত্বারোপ করে ডা. শাকিল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইমাম ও খতিবরা তাদের বক্তব্যে পরিচ্ছন্নতা ও জমে থাকা পানি অপসারণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করলে তা মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরিচ্ছন্নতা ধর্মীয় শিক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
এসআরএস/ডিটিভি
আরও পড়ুন