




সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএমইউর ১ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট, অগ্রাধিকার পাবে গবেষণা ও উন্নত চিকিৎসাসেবা
সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট। এবারের বাজেটের আকার গতবারের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ ১৭ জুন ২০২৬ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে অর্থ কমিটির ১১৯তম সভায় এই প্রস্তাবিত বাজেট ও গত অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারের সভাপতিত্বে এবং পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসানের সঞ্চালনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য ও ভিশন নির্ধারণ করা হয়েছে— “সেবায় শ্রেষ্ঠতা, শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্বমান হোক দৃশ্যমান। স্বাস্থ্যসেবায় প্রাধিকার হোক সবার অধিকার। ব্যয় হ্রাস অনুক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন।”
সভায় উপস্থিত থেকে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বিএমইউর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি তাঁর প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আগামী সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করতে যাওয়া এই বাজেট অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগের ঘোষণা দেন। উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড (ইএমআর) চালু করা এবং অফিসগুলোকে সম্পূর্ণ 'পেপারলেস' করা অতি জরুরি। এছাড়া লিফট ও এস্কেলেটর সেবাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা, আউটসোর্সিং কোম্পানির কাজের পূর্ণাঙ্গ মনিটরিং এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রকল্পগুলোকে ইন্টারনাল অডিটের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। বর্তমান সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটকে সামনে রেখে রোবটিক সার্জারি, অ্যাডভান্সড টেকনোলজি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার জন্য সকল বিভাগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থ কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৯টি নিজস্ব বিভাগ ও ৫৫টি অধিভুক্ত মেডিক্যাল কলেজ ও ইনস্টিটিউট পরিচালনাকারী এই প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাধর্মী ও আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করা হয়। সভায় জানানো হয়, নতুন বাজেটে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপির সুবিধার্থে আরও একটি অত্যাধুনিক 'লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন' ক্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সাথে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ও পূর্ণাঙ্গ বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের মতো জীবনরক্ষাকারী উন্নত চিকিৎসাসেবা বাস্তবায়নের বিষয়টিও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া, আল্ট্রাসাউন্ড সেবাকে আরও সহজলভ্য ও পরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারণ করার কথা বলা হয়েছে যাতে সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ কমে আসে।
গবেষণার ক্ষেত্রে 'নীড বেইসড অ্যাসেসমেন্ট' মূল্যায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি সভায় গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। নতুন বাজেটে মেডিক্যাল জার্নাল, ইনফেকশন কন্ট্রোল, লাইব্রেরি ও ইনফরমেশন খাতে বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সভায় উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যবৃন্দ এবং অন্যান্য নীতিনির্ধারকরা ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে একটি সুসমন্বিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। চলতি মাসেই অনুষ্ঠেয় সিন্ডিকেট সভায় এই সংশোধিত ও প্রস্তাবিত বাজেটটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন ও ঘোষণা করা হবে।
আরও পড়ুন