




আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলে ঝুঁকিতে ৩৫০ বিদেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, আতঙ্কে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়নরত বিদেশী শিক্ষার্থীরা। আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করা প্রায় ৩৫০ জন বিদেশী শিক্ষার্থী, বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এখন ‘ভয়ংকর বিপদে’ পড়তে যাচ্ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাকলায়েন।
আজ বুধবার (১৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই উদ্বেগের কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক ডা. সাকলায়েন জানান, আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের এই বিপুল সংখ্যক বিদেশী শিক্ষার্থীর প্রতিদিন কাটছে এখন অজানা এক আতঙ্কে। লাইসেন্স বাতিলের কারণে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিয়মানুযায়ী এই শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন করে অন্য কোনো হাসপাতালে পাঠাতে হবে। কিন্তু ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এখানেই বড় বিপদের কারণ লুকিয়ে আছে। ভারতের চিকিৎসাসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী যে মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করবেন, ইন্টার্নশিপও তাকে সেই হাসপাতালেই সম্পন্ন করতে হবে। এক মেডিকেলে পড়াশোনা করে অন্য হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করলে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (ইন্ডিয়ান অথোরিটি) কোনোভাবেই তাদের লাইসেন্স গ্রহণযোগ্য বা এক্সসেপ্ট করবে না।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে তিনি পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, এই জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ভারতের দূতাবাসও (ইন্ডিয়ান অ্যাম্বাসি) তাদের সরাসরি কোনো সাহায্য করতে পারছে না। কারণ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা ‘ইন্টারনাল ম্যাটার’। ফলে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো হাসপাতালে স্থানান্তরিত হলেও ভবিষ্যতে নিজ দেশে গিয়ে চিকিৎসক হিসেবে লাইসেন্স পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তবে সংকট উত্তরণে আশার বাণী শুনিয়ে ডা. সাকলায়েন জানান, খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছে। একই সাথে তারা এই বিদেশী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে একটি যৌক্তিক ও ইতিবাচক সমাধানের জন্য বেশ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। তবে শিক্ষার্থীদের এই মানসিক যন্ত্রণা ও গভীর অনিশ্চয়তা থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন