
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলে এনডিএফ-এর গভীর উদ্বেগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চিকিৎসকদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।
১২ জুন ২০২৬ তারিখে সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এনডিএফ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম এবং জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদ হোসেন যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্তটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে আদ-দ্বীন হাসপাতাল দেশের দরিদ্র, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। মানবিক ও সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে লাখ লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল ও ভরসা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। হাসপাতালটির সেবার ব্যাপকতা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত এখানে ৩ লাখ ৩ হাজারেরও বেশি শিশু নিরাপদে জন্মগ্রহণ করেছে। এছাড়া শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই হাসপাতালটি থেকে রেকর্ডসংখ্যক ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭২৬ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ৯,১৯৭টি স্বাভাবিক (Normal) ডেলিভারি, ২৮,৬৭৪টি সিজারিয়ান (Caesarean Section) ডেলিভারি এবং ১৩,৩৬১টি সফল সাধারণ অস্ত্রোপচার (General Surgery) সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ৯,৮৩৬ জনকে সফলভাবে টিকাদান সেবা প্রদান করা হয়েছে।
সংগঠনটি তাদের দাবিতে স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা যায়।
তবে উক্ত ঘটনায় যদি কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির ভুল বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। কিন্তু "গরিবের চিকিৎসাকেন্দ্র" হিসেবে পরিচিত এই হাসপাতালের লাইসেন্স পুরোপুরি বাতিল করার কারণে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।
তাই জনস্বার্থ ও মানবিক দিক বিবেচনা করে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তটি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করার জন্য এনডিএফ সরকারের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন