
তামাকজাত পণ্যে ৩৫০% আমদানি শুল্ক, কমছে ডায়ালাইসিস ও ক্যান্সারের ওষুধের খরচ: প্রস্তাবিত বাজেট
জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস ও দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষার লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানিকৃত তামাকজাত পণ্যের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট পেশ করেন। বাজেটে তামাক পণ্যের রাজস্ব সম্ভাবনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক স্তরের ভিত্তিতে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা, মধ্যমস্তর ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা, উচ্চস্তর ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চস্তর ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের পাশাপাশি অবৈধ তামাক বাণিজ্য রুখতে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তামাকের ওপর কর বৃদ্ধির বিপরীতে স্বাস্থ্য খাতের চিকিৎসাব্যয় কমাতে এবারের বাজেটে এক অভূতপূর্ব মানবিক ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের অন্যতম প্রধান উপাদান ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিটি ডায়ালাইসিসে রোগীদের খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে। দেশের প্রায় ৩.৮ কোটি কিডনি রোগীর আর্থিক সংকট লাঘবে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
একই সাথে হৃদরোগী ও চোখের রোগীদের স্বস্তি দিতে কার্ডিয়াক স্টেন্ট (হার্টের রিং) ও ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের সরবরাহ পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে হার্টের রিংয়ের দাম ১০৯,৮০০ টাকা থেকে কমে ৬২,০০০ টাকা হতে পারে এবং প্রতিটি রিংয়ে প্রায় ২০,০০০ টাকা ও চোখের লেন্সে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমবে। এছাড়া ক্যান্সারের ওষুধের চড়া মূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে আরও ৯টি নতুন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে।
আরও পড়ুন