Ad
Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬


এফসিপিএস ট্রেইনিদের নতুন নীতিমালা: প্রতি সেশনে ২ হাজার বেসরকারি চিকিৎসক পাবেন ভাতা

Main Image

এফসিপিএস ট্রেইনিদের নতুন নীতিমালা: প্রতি সেশনে ২ হাজার বেসরকারি চিকিৎসক পাবেন ভাতা


বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর অধীনে এফসিপিএস ১ম পর্ব উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন ও ভাতা প্রদান সংক্রান্ত একটি নতুন নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

 

 গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এখন থেকে প্রতি সেশনে সর্বোচ্চ ২০০০ জন (কম/বেশী) বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীকে মেধাক্রমের ভিত্তিতে সরকারি ভাতাভুক্ত প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে এনরোলমেন্ট করা হবে। তবে এই নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশিক্ষণ ভাতা ও পোস্টিং নিয়ে ট্রেইনিদের মাঝে এক ধরনের উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করতে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিসিপিএস।

 

 বিসিপিএস-এর চারজন কাউন্সিলর— অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, অধ্যাপক ডা. নুরুদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. লুৎফুল আজিজ এবং অধ্যাপক ডা. সেহেরিন ফরহাদ সিদ্দিকা যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, যোগ্য সকল প্রাইভেট বা বেসরকারি ক্যান্ডিডেট প্রশিক্ষণ ভাতার আওতায় থাকবেন এবং কাউকেই বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। মূলত বাজেট ও খরচের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মন্ত্রণালয় এই ২০০০ জনের একটি আনুমানিক সংখ্যা নির্ধারণ করেছে, যা কোনোভাবেই কারও সুযোগ সীমিত করার জন্য নয় এবং এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এছাড়া ট্রেনিং কোথায় বা কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিসিপিএস কাউন্সিল এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি; বরং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি কার্যকর কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।


​মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সজীব দাশ স্বাক্ষরিত নতুন এই নীতিমালায় পদায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রতি সেশনে প্রতি ইউনিটে নতুন প্রশিক্ষণার্থী পদায়ন করা হবে, যার মধ্যে 'এ' ক্যাটাগরির হাসপাতালে সর্বোচ্চ ০৬ জন, 'বি' ও 'সি' ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ০৫ জন এবং 'ডি' ক্যাটাগরির হাসপাতালে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ০৪ জন ট্রেইনি সুযোগ পাবেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি এফসিপিএস ১ম পর্ব উত্তীর্ণদের মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলকভাবে ‘অটোমেশন পদ্ধতিতে’ সম্পন্ন করা হবে এবং এই সিস্টেমের বাইরে হাসপাতালের পরিচালকেরা কোনো প্রশিক্ষণার্থী সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন না।

 

 প্রশিক্ষক বা ট্রেইনার হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রেও নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে; শুধুমাত্র অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত ন্যূনতম ০৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিগ্রিধারী সিনিয়র বা জুনিয়র কনসালটেন্টরাই কেবল প্রশিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং শুধু ইউনিট প্রধানের তত্ত্বাবধানেই ট্রেইনি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি জনস্বার্থ বিবেচনায় পদায়নের ক্ষেত্রে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেনসিক মেডিসিন, কমিউনিটি মেডিসিন, অ্যানেস্থেসিওলজি, রেডিওলজি সহ বেশ কিছু মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে অন্যান্য বিষয়ে পদায়ন করা হবে। 

 

বিসিপিএস কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র অফিশিয়াল মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার বিশেষায়িত শিক্ষার প্রসারে সর্বোচ্চ আন্তরিক এবং আগামী অর্থবছরের স্বাস্থ্য বাজেট হবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ, যা চিকিৎসকদের মানোন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে। তাই যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য সকলকে ধৈর্য ধারণ করে অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন